নূরুল হুদার ১৫ দিনের পরামর্শে জয় পান রনি!

দল ও জোটের বিপরীতে গিয়ে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি।
তিনি বলেছেন, ‘ভোটে কিভাবে জিততে হয়, তা আমি বর্তমান সিইসি নূরুল হুদার কাছ থেকেই শিখেছি। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি ১৫ দিন আমার বাসায় থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলেন। ক্যাম্পেইন করেছিলেন।’
আলেচিত-সমালোচিত গোলাম মওলা রনি সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এরপর তাকে পটুয়াখালী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছে। যদিও এখানে তিনি ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা হাসান মামুনকেও বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। সে হিসেবে গতকাল বুধবার রনি এবং মামুন দু’জনেই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
বুধবার রাতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী তার বাসভবনে গোলাম মওলা রনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম মওলা রনি বলেন, ‘পটুয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া শাহাজাদা সাজু সিইসির ভাগ্নে, ঠিক আছে। কিন্তু, তিনি আমারও কম কিছু নন। তিনি আমারও অভিভাবক।’
তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, আমার নির্বাচন কৌশল ঠিক করে দিয়েছিলেন কেএম নূরুল হুদা। তিনি আমার বাসায় অন্তত ১৫ দিন বসবাস করে আমাকে নির্বাচনী কাজে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। ক্যাম্পেইন করেছিলেন।’
গোলাম মওলা রনি বলেন, ‘তখন তিনি সিইসি ছিলেন না। এখন তিনি সিইসি। তবে আমার কাছে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা। তার ভেতরে সেই ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা বসত করলে, আমার নির্বাচনী মাঠে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তিনি আগের নূরুল হুদাই আছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি কোনোভাবেই বিতর্কিত হবেন না। এমন কি তার ভাগ্নের জন্যও না। কারণ, তার ভেতরে সেই ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো এখনও বিরাজমান।’
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, আপনার দল বিএনপি এবং জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন সিইসিকে নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনে স্বার্থে তিনি তাকে সরিয়ে দেয়ারও দাবি করেছেন।
জবাবে রনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন সারা দেশের ৩০০ আসন নিয়ে ভাবছেন। আমি শুধু একটি আসন নিয়ে ভাবছি। তিনি একটি বিশাল সমুদ্র, আমি তার বুকে ভেসে যাওয়া চিনা বাদামের খোসা। তার ভাবনার সঙ্গে আমার ভাবনার অমিল থাকতেই পারে।’
নির্বাচনী এলাকায় কবে যাবেন এমন প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতীক পাওয়ার পরে আনুষ্ঠানিকভাবে এলাকায় যাব। পটুয়াখালী-৩ আসনে আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, জনগণ ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন।’
এ সময় আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গোলাম মওলা রনি আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন। তাকে আমরা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলাম।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ ছরোয়ার কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন, দফতর সম্পাদক গোলাম রহমান প্রমুখ।