দখল-হারিয়ে যাওয়া খেলার মাঠ রক্ষায় এগিয়ে এলো তরুণ সমাজ



হারিয়ে যেতে বসা ও নানাভাবে দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ রক্ষায় যুব সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন কক্সবাজারের ক্রীড়ামোদি তরুণ সমাজ। এই লক্ষ্য নিয়ে আজ শুক্রবার ‘প্রতীকী আবেদন’ সরূপ দুইটি প্রীতি ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করেছে ‘খেলার মাঠ চাই ফোরাম’। যেখানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এবং পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

কক্সবাজারের তরুণ ক্রীড়া সংগঠকদের নিয়ে গঠিত ‘খেলার মাঠ চাই ফোরাম’র প্রধান উদ্যোক্তা হাসান মেহেদী রহমান জানান, জেলা শহরে অনেকগুলো বৃহৎ খেলার মাঠ ছিলো। এরমধ্যে বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমিন স্টেডিয়াম ছাড়া অন্যতম হলো শহরের বৃহত্তর রুমালিয়ারছড়া প্রধান সড়ক সংলগ্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মাঠ, যেটা পিটি স্কুল মাঠ নামে পরিচিত। দ্বিতীয়টি হলো-শহরের দক্ষিণ বাহারছড়া গোল চত্বর মাঠ ও তৃতীয়টি-শহরের হলিডে মোড়স্থ পশ্চিম পাশের সর্ববৃহৎ ঐতিহাসিক জেলে পার্ক মাঠ। বর্তমানে সবই হারিয়ে যেতে বসেছে।

তিনি বলেন, এভাবে মাঠগুলো হারিয়ে গেলে কক্সবাজারের খেলাপ্রিয় মানুষের অবস্থা কি হবে? তাই ‘খেলার মাঠ চাই ফোরামে’র উদ্যোগে মাঠ সুরক্ষার দাবিতে হোটেল শৈবাল সংলগ্ন খালি জায়গায় প্রীতি ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ ৩০ নভেম্বর বিকেল আইড়াটার দিকে মেধাবী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। প্রীতি ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান। এতে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান হাসান মেহেদী।

এদিকে হারিয়ে যাওয়া মাঠ তথা পিটিস্কুল মাঠে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য লীডারশীপ ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করতে গিয়ে মাঠটির প্রায় তিন চতুর্থাংশ দু’বছর আগে থেকে দখল করে ফেলা হয়েছে। লীডারশীপ ট্রেনিং সেন্টারের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার অাগে স্থানীয় জনসাধারণ ও পরিবেশবাদীরা খেলার মাঠটি দখল না করে ট্রেনিং সেন্টারটি জেলা সদরের অন্য কোথাও অথবা প্রয়োজনে প্রাইভেট জমি অধিগ্রহণ করে সেটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আন্দোলনসহ পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিলো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই দাবি আমলে না নিয়ে পিটিস্কুল খেলার মাঠের অধিকাংশ জায়গা দখল করে সেন্টারটির নির্মাণ কাজ করছে।

দ্বিতীয়টি বাহারছড়া গোল চত্বর মাঠ। এটি গণপূর্ত বিভাগের জমি। গণপূর্ত বিভাগ গোল চত্বর খেলার মাঠটিতে মাস ছ’য়েক আগে চর্তুপাশে দেয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলেছে। ফলে উন্মুক্ত এই খেলার মাঠটিতে সন্তানরা আর খেলাধুলা করতে পারছে না কয়েকমাস ধরে।

তৃতীয় খেলার মাঠ ঐতিহাসিক জেলে পার্কটির পূর্বপাশ অর্থাৎ পুরাতন ঝিনুক মার্কেটের দিকে অনেক আগে থেকেই দখল হয়ে আসছিলো। গত ২৩ নভেম্বর থেকে জেলে পার্কে মাটি ভরাট হতে চলছে। এমনভাবে মাটি ভরাটের কাজ চলছে, দেখলে মনে হবে এটা যেন একটা যুদ্ধের ময়দান। অনেকেই সেখানে বলাবলি করছেন, দেশের একটি প্রভাবশালী ভূমি খেকো গ্রুপকে ঢাকা থেকে এই ময়দানটি দীর্ঘমেয়াদী লীজ দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সচেতন মহল জানতে চায়, এই জেলে পার্কটির মালিকানা কার? জেলা প্রশাসকের, গণপূর্ত বিভাগের নাকি কক্সবাজার পৌরসভার।

এভাবে কক্সবাজার জেলা শহরের একে একে সকল উন্মুক্ত খেলার মাঠ দখল হয়ে যাচ্ছে। এগুলো কক্সবাজারের সচেতন মহল কি দেখছেন না? পরবর্তী প্রজন্ম কি এব্যাপারে আমাদের দোষারোপ করবে না? তাই এতো সব প্রশ্নের জবাব জানতে এখন অপেক্ষায় আছে কক্সবাজারের সচেতন ক্রীড়ামোদী মানুষগুলো।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!