সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ১০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ উদ্ধার, দালাল গ্রেপ্তার

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ১০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ উদ্ধার, দালাল গ্রেপ্তার

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ১০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ উদ্ধার, দালাল গ্রেপ্তার

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে নারীসহ ১০ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। ওই সময় আবদুর রহমান (২৫) নামে এক দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়ার ফজলুল হকের ছেলে।

শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর মাঝের পাড়া থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন নারীও রয়েছেন। তারা সবাই গত বছরের আগষ্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে প্রাণ বাচাঁতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

মালয়েশিগামীরা হলেন মো. জিয়া, রশিদ ইল্লাহ, নুর আলম, মো. জাবের, মো. মোকাদেছা, জান্নাত আরা, সেতেরা, জোলেখা, রোজিনা, সলিকা। তারা সকলেই উখিয়ার কুতুপালং, জাদিমুরা, মৌচনী ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা।

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ১০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ উদ্ধার, দালাল গ্রেপ্তার

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের কক্সবাজারস্থ কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান। তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া নিয়ে যাবার কথা বলে শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা আবদুর রহমানের বাড়িতে ওই সকল রোহিঙ্গাকে জড়ো করে রাখা হয়েছে, এমন গোপন খবর পেয়ে তার নেতৃত্বে র‌্যাব একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দালাল বাড়ির মালিক আবদুর রহমানকে আটক করা হয়।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে মেজর মেহেদী বলেন, একদিন আগে প্রলোভন দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে তাদের সেখানে নিয়ে আসা হয় এবং গভীর সাগরে একটি বড় ট্রলারে তাদের তুলে দেয়ার কথা ছিল। মালয়েশিয়া পৌছার পর আরও ২ লাখ টাকা করে দেয়ারও কথা ছিল। রোহিঙ্গা নারীদের সেখানে বিয়ের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় তাদের উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা দিয়ে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়রা জানান, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অবস্থান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাচারকারীরা। দালালের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগরে নেমে বিপদে পড়ছেন।