যাত্রীবেশে টমটম চালককে হত্যার চেষ্টাকারি ৩ ছিনতাইকারি ধরলো জনতা

যাত্রীবেশে টমটম চালককে হত্যার চেষ্টাকারি ৩ ছিনতাইকারি ধরলো জনতা

যাত্রীবেশে টমটম চালককে হত্যার চেষ্টাকারি ৩ ছিনতাইকারি ধরলো জনতা

যাত্রী বেশে ব্যাটারিচালিত টমটম ভাড়া নিয়ে চালককে জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ছিনতাইয়ে জড়িত তিনজনকে ধরে পুলিশকে দিয়েছে জনতা। ধৃত তিনজনই পেশাদার ছিনতাইকারি দলের সদস্য।

ধৃত তিন ছিনতাইকারি হলো ঈদগাঁও ইউনিয়নের শিয়া পাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মোঃ সাগর ওরফে শরিফ (২১), ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ বাবুলের ছেলে মোহাম্মদ ইমরান (২০) ও একই এলাকার লাল ব্রীজের পশ্চিমের তোফায়েল আহমদ ড্রাইভারের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল (২২)।

ছিনতাইকারিদের কবলে পড়া টমটম চালক মোহাম্মদ জিন্নাহ ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী ভিলেজার পাড়া এলাকার মৃত আলী আকবরের ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্র মতে, ২৭ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ঈদগাঁও বাস ষ্টেশন থেকে মেহেরঘোনা যাওয়ার জন্য একটি টমটম (ইজিবাইক) রিজার্ভে ভাড়া নেয় তিন যুবক।

টমটম চালক জিন্নাহ জানান, তারা তিনজন তার টমটমটি রিজার্ভ ভাড়া করে মেহেরঘোনা যেতে বলে। রওনা দিয়ে গন্তব্যস্থলে আগেই কলেজ গেইটের পশ্চিমে কবরস্থানের কাছাকাছি পৌছলে গাড়ি থামাতে বলে। থামানোর সাথে সাথেই তার গলায় ছুরি ধরে ফাইভ স্টার মডেলের একটি মোবাইল সেট ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে টমটমটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

তিনি জানান, ওই সময় তার শোর চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারি দল। পরদিন ২৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মোবাইল সেটটি দরগাহ পাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তিকে বিক্রি করার চেষ্টা করে।

সূত্র মতে, মোবাইলটি বিক্রির চেষ্টাকালিন টমটম চালক জিন্নাহর পূর্বপরিচিত মোবাইল মেকানিক শাহাব উদ্দিন চিনতে পারেন। খবর পেয়ে দরগাহ পাড়া এলাকায় যায় জিন্নাহ। তখন মোবাইলটি তার দাবি করলে পুনরায় জিন্নাহকে মারধর করতে সিদ্ধান্ত নেয় ছিনতাইকারি দলের সদস্যরা। তাৎক্ষণিক লোকজন জড়ো হলে টমটম চালক জিন্নাহ তাদের ঘটনার বিস্তারিত বলেন। ওই সময় ছিনতাইকারীদের ঘেরাও করে রাখেন স্থানীয় লোকজন।

লোকজন পুলিশকে খবর দিলে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মোঃ আসাদুজ্জামানের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক (এসআই) সনজিত চন্দ্র নাথের নেতৃত্বে এএসআই লিটনুর রহমান জয়সহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিনতাইকারিদের তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান।

পরদিন ২৯ নভেম্বর টমটম চালক বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

উপ-পরিদর্শক (এসআই) সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন, আটককৃতরা চিহ্নিত ও পেশাদার ছিনতাইকারি। বিভিন্ন সময়ে তারা ছিনতাই করে বলে তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। এ দিন স্থানীয় জনতা তাদের ধরে পুলিশে খবর দিলে তাদের আটক করে নিয়ে আসা হয়।

তিনি জানান, এদিন আদালতের মাধ্যমে ছিনতাইকারিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।