বাংলাবাজারে অন্তস্বত্তা স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেলো স্বামী

বাংলাবাজারে অন্তস্বত্তা স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেলো স্বামী

বাংলাবাজারে অন্তস্বত্তা স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেলো স্বামী

কক্সবাজার সদর উপজেলার বাংলাবাজার পশ্চিম মোক্তারকুল এলাকা থেকে তাসলিমা আকতার (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই গৃহবধূ পাঁচমাসের অন্তসত্বা।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত গৃহবধূ ওই এলাকার মৃত রমজানের মেয়ে। এই ঘটনায় স্বামী মো. ফারুক পলাতক রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার।

ওসি জানিয়েছেন, গলাটিপে এই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পরপরই স্বামী পলাতক হয়ে গেছে। তবে কি কারণে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এখনো জানা যায়নি। পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিহতের মা রাজিয়া বেগমের বরাত দিয়ে স্থানীয় ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর স্ত্রী তসলিমাকে নিয়ে তাদের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে মো. ফারুক। সন্ধ্যার আগে শ্বাশুড়ি রাজিয়া বেগমকে ফোন করে মো. ফারুক জানায়, ‘তসলিমাকে পাওয়া যাচ্ছে না’।

মাগরিবের আগে রাজিয়া বেগম মেয়ের বাড়িতে এসে দেখেন, মেয়ে ভাড়াবাড়িতে মৃত পড়ে আছে। এসময় ফারুক বাসায় ছিলো না।

পরে এই খবর লোক মারফতে পাওয়ার পর পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

পরিচয় সূত্র থেকে মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা মো. ফারুকের সাথে তাসলিমা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাসলিমা পাঁচমাসের অন্তসত্ত্বা ছিলেন বলে জানান চেয়ারম্যান টিপু সুলতান।

স্থানীয়দের ধারণা, মাদক কিংবা অন্য কোনো অপরাধ কর্মে জড়িত হয়ে ফারুক কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। এসময় পিতৃহীন তাসলিমাদের পরিবারের সাথে পরিচয়ের পর সখ্যতা ঘটে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাসলিমাকে পারিবারিকভাবে বিয়েও করে ফারুক। কিন্তু তার আসল কাজ কি কেউ দেখেনি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসা হয়েছে রাত ১১টার দিকে।

তিনি জানান, পারিবারিক কলহের কারণে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের পর এবং স্বামীকে আটকের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান ওসি ফরিদ খন্দকার।