আ.লীগের ৩৬, বিএনপির ৫ আসনে প্রার্থী নেই

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে কোনও দলই ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। সর্বোচ্চ ২৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আর ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন দিয়েছে একটি আসনে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবার ৩৬টি আসনে কাউকে মনোনয়নই দেয়নি। বিএনপি দেয়নি ৫টি আসনে। আর জাতীয় পার্টি দেয়নি ৯০টি আসনে।

এদিকে সব আসনে প্রার্থী না দিলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি অনেক আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। বিএনপি প্রায় প্রতি আসনেই একাধিক প্রার্থী প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৫ আসনে দিয়েছে ৬৯৬জনকে। দলটি কৌশলগত কারণে একাধিক প্রার্থী রেখেছে বলে জানা গেছে। ২৬৪টি আসনে আওয়ামী লীগের ২৮১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বৃহস্পতিবার রাতে দলভিত্তিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। ইসি সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে তিন হাজার ৬৫জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী দুই হাজার ৫৬৭ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৯৮ জন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এলডিপি (ছাতা) ১৫জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ১৭ জন, সাম্যবাদী দল (চাকা) ৩জন, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৭জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি (কাস্তে) ৭৭জন, আওয়ামী লীগ (নৌকা) ২৮১জন, বিএনপি (ধানের শীষ) ৬৯৬জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ৮ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (কুঁড়ে ঘর) ১৪জন, ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩জন, বিকল্প ধারা (কুলা অথবা নৌকা) ৩৭জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ২৩৩জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (মশাল) ৫৩জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি (তারা) ৫১জন, জাকের পার্টি (গোলাপফুল) ১০৮ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) ৪৯জন, জাতীয় পার্টি-বিজেপি (গরুর গাড়ী) ১১জন, তরীকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ২০জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বট গাছ) ২৬জন, মুসলিম লীগ (হারিকেন) ৪৯জন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (আম) ৯০ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) ১৫জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৬১ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ১৬ জন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (বাঘ) ১৬ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (গাভী) ৪জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ২৮জন, কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ৫জন, ইসলামিক ঐক্যজোট (মিনার) ৩২জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ (রিকশা) ১২জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) ২৯৯জন, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট (মোমবাতি) ২১জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (হুক্কা) ৬জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল) ৩০জন, খেলাফত মজলিশ (দেয়ালঘড়ি) ১২জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হাতপাঞ্জা) ১৭ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট একজন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ (টেলিভিশন) দিয়েছে ৭১ জন।

নির্বাচন কমিশেনর নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে জানা গেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৪ আসনে আওয়ামী লীগের ২৮১ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছে। দলটির পক্ষে ১৭টি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই দলটির পক্ষে ৩৬টি আসনে কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাওঁ-৩; নীলফামারী-৩ ও ৪; লালমনিরহাট-৩; রংপুর-১ ও ৩; কুড়িগ্রাম-২; গাইবান্ধা-১; বগুড়া-২, ৩, ৪, ৬ ও ৭; রাজশাহী-২; কুষ্টিয়া-২; বরিশাল-৩ ও ৬; পিরোজপুর-২ ও ৩; ময়মনসিংহ-৪ ও ৮; কিশোরগঞ্জ-৩; মুন্সিগঞ্জ-১; ঢাকা-৪, ৬ ও ৮; নারায়ণগঞ্জ-৫; সুনামগঞ্জ-৪; সিলেট-২; মৌলভীবাজার-২; বাহ্মবাড়িয়া-২; ফেণী-১ ও ৩; লক্ষ্মীপুর-২ এবং চট্টগ্রাম-২ ও ৫।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, শরিক মহাজোটের দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ ৩৬টি আসনে কোনও প্রার্থী দেয়নি। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শরিকদের আরও কিছু আসন ছেড়ে দিয়ে নিজেদের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করিয়ে নিতে পারে।

বিএনপির প্রার্থীরা ২৯৫টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৩৮টি আসনে একক প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া ২৫৭টি আসনে দুই থেকে ৫জন পর্যন্ত প্রার্থী রয়েছে। দলটি কৌশলগত কারণে একাধিক প্রার্থী রেখেছে বলে জানা গেছে। দলটি ৫টি আসনে কোনও প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।

আসনগুলো হলো- টাঙ্গাইল-৮, মৌলভীবাজার-২, কুমিল্লা-৭, লক্ষ্মীপুর-৪ ও চট্টগ্রাম-১৪। আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিরও বেশ কিছু আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সমাঝোতা হলে ওইসব আসন থেকে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবে।

বিএনপির যে আসনগুলোতে একক প্রার্থী দিয়েছে সেগুলো হলো: ঠাকুরগাঁও-১ ও ৩, লালমনিরহাট-৩, গাইবান্ধা-১, বগুড়া-২, চাপাইনবাবগঞ্জ-২, পাবনা-১, কুষ্টিয়া-১, চুয়াডাঙ্গা-২, মাগুরা-১, খুলনা-১ ও ২, জামালপুর-৪, ময়মনসিংহ-৫, কিশোরগঞ্জ-৬, ঢাকা-৩, মুন্সীগঞ্জ-৩, গাজীপুর-৩, ৪ ও ৫, নরসিংদী-১ ও ২, নারায়ণগঞ্জ-৩, মাদারীপুর-৩, শরীয়তপুর-১, ২, ও ৩, হবিগঞ্জ-১ ও ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, নোয়াখালী-৬, লক্ষ্মীপুর-১, চট্টগ্রাম-১১, ১৫ ও ১৬ এবং কক্সবাজার-১, ২ ও ৩।

জাতীয় পর্টি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১০টি আসনে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো এ দলটিরও কয়েকটি আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। জাতীয় পার্টি যে আসনগুলোতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি সেগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-১ ও ২; দিনাজপুর-৩; নীলফামারী-২; লালমনিরহাট-২; রংপুর-৬; গাইবান্ধা-২; চাপাইনবাবগঞ্জ-১, ২ ও ৩; নঁওগা-৬; রাজশাহী-১ ও ৪; সিরাজগঞ্জ- ১, ২, ৫ ও ৬; পাবনা-২, ৩ ও ৪; কুষ্টিয়া-২ ও ৩; চুয়াডাঙ্গা-২; ঝিনাইদাহ-১, ২ ও ৪, যশোহর-১; মাগুরা-২; খুলনা-৩; সাতক্ষীরা-৩; বরগুনা-১; পটুয়াখালী-২; ভোলা-২; বরিশাল-১ ও ৪, পিরোজপুর-২; টাঙ্গাইল-১, ২, ৩ ও ৬; শেরপুর-২, ময়মনসিংহ ১, ৩ ও ১১; নেত্রকোনা-১, ৪ ও ৫; কিশোরগঞ্জ-৪ ও ৫; মানিকগঞ্জ-১; ঢাকা-১, ২, ৯ ও ১৯; নারায়ণগঞ্জ-২; ফরিদপুর-২, ৩ ও ৪; গোপালগঞ্জ-১; মাদারীপুর ২ ও ৩; শরিয়তপুর-১ ও ২; সুনামগঞ্জ-১ ও ৩; মৌলভীবাজার ১, ৩ ও ৪; হবিগঞ্জ-৪; বাহ্মণবাড়িয়া-১; কুমিল্লা-৬, ৯ ও ১০; চাঁদপুর-৩; ফেনি-১ ও ২; নোয়াখালী-৩; লক্ষ্মীপুর-৩ ও ৪; চট্টগ্রাম-১, ৩, ৬, ৭, ৮, ৯, ১১, ১৩, ১৫ ও পার্বত্য বান্দরবান।

আগামী ২ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ করা হবে।