‘বিকল্প প্রার্থী’ নিয়ে বিএনপিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে অনেকটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলটি বেশির ভাগ আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। এতে প্রায় আড়াইশ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০০। এর মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পাবেন, এটা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এই কৌশল নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। বাড়তে পারে অন্তঃকোন্দলও।

তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, কোনো আসন যেন ধানের শীষের প্রার্থীশূন্য না হয়, সে জন্যই একাধিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলের সংকটের এই মুহূর্তে সবাইকে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা বিভাগের একটি আসন থেকে। একাধিকবারের এই সংসদ সদস্যের আসনে আরও দুজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এটা ঠিক হয়নি। কেন দুজনকে দেওয়া হলো জানি না। আমি তো দুই দিনের জন্য রাজনীতিতে আসিনি। আমাকে বলা হয়েছে বাকিরা শেষ মুহূর্তে সরে যাবেন। আর না গেলে নাই আমি তো আছি।’

তবে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ঢাকা টাইমসকে বললেন ভিন্ন কথা। তার সঙ্গেও একজনকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘যাদের বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে তারা জানে কে মূল প্রার্থী। তাই এখানে অসুবিধার কিছু নেই বরং দল এবং প্রার্থীর সুবিধার কথা চিন্তা করে এমনটা করা হয়েছে। এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে, এমন আশা করি না। মূল কথা হলো কোনো আসন যেন খালি না যায়, এ জন্যই এটা করা হয়েছে।’

দুই দিনের বিতরণ কার্যক্রম শেষ করে মঙ্গলবার আড়াই শতাধিক আসনে দলের প্রায় ৮০০ নেতাকে মনোনয়নের চিঠি দেয় বিএনপি। এর মধ্যে অল্প কিছু আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে দলটি। আবার কিছু কিছু নেতা নিজে থেকে পরিবারের সদস্যদের বিকল্প প্রার্থী রেখেছেন। যেমন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেনকে দুই আসনের একটিতে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। আবার আমানউল্লাহ আমান আগে থেকেই তার আসনে ছেলেকে বিকল্প প্রার্থী রেখেছেন।

আবার কোথাও কোথাও জোটের শরিকদের জন্য ছাড় দিতে হচ্ছে বিএনপিকে, যা নিয়ে কিছুটা চাপা ক্ষোভ আছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেখানে আরও দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই এই আসনে প্রার্থী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত এসব কোনো সমস্যা হিসেবে দাঁড়াবে না বলে মনে করেন বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে এবার বিএনপি বা জোটের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা করবে না। বরং তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ করবে। কারণ সবাই জানে এবার আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।’

মঞ্জু বলেন, ‘আশা করছি চূড়ান্ত মনোনয়নের পরও ঝামেলা হবে না। বিভক্তি ঠেকাতে খুলনায় দলীয় বৈঠক করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একসঙ্গে সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনা করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একজনকে দল শেষ পর্যন্ত প্রার্থী রাখবে, এটা সবাই জানেন। আশা করি, সবাই দলের জন্য এ বিষয়ে সেক্রিফাইস করবে। আর শুরুতে একটু সমস্যা মনে হলেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর সব ঠিক হয়ে যাবে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন দেওয়ার সময় প্রার্থীদের বলা হয়েছে, চিঠি পাওয়ার অর্থ আপনি ধানের শীষ পাবেন এমনটা নয়। ৯ ডিসেম্বর যাদের নামে চিঠি যাবে, তারাই ধানের শীষ পাবেন।