গোপনে মনোনয়ন ফরম জমা, জিয়াউদ্দিন বাবলুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদের আপন ভাগ্নির জামাই জিয়াউদ্দিন বাবলু জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রংপুর ২ আসনের জন্য নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করিয়েছেন। তিনি এ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসবেন এমন খবরের ভিত্তিতে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির উত্তেজিত কর্মীরা অবস্থান নেন। কিন্তু বাবলুর পক্ষে তার ভাগ্নে ও সহযোগীরা গোপনে ২০ কিলোমিটার দূরের তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে চলে যান। জাপা নেতাদের দাবি, এরশাদ বাবলুকে রংপুর ২ আসনের মনোনয়ন দেননি। তিনি এরশাদের স্বাক্ষর করা মনোনয়নপত্র চুরি করে গোপনে মনোনয়নপত্র জমা দিইয়েছেন। তারা বাবলুকে রংপুর দুই নির্বাচনি এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

দুপুর ১২টার পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর হঠাৎ করে মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে জাপা ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতা-কর্মী রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুর খোঁজ করতে থাকেন। এ সময় তারা জানান, কোন অবস্থাতেই তাকে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে দেওয়া হবে না। এরপর আস্তে আস্তে দলের নেতা কর্মীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারা কার্যালয়ের ভেতরে ছাড়াও প্রবেশপথ ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুর খোঁজ অব্যাহত রাখেন। এসময় বেশ কিছু গাড়ি তল্লাশী করেন। এ সময় তারা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দেন, বাবলু মনোনয়নপত্র দাখিল করতে এলে প্রতিহত করা হবে।

অবস্থা এমন পর্যায়ে উপনীত হয় যে জিয়াউদ্দিন বাবলু আসলেই বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ একজন সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের ভেতরে এবং প্রবেশ পথে অবস্থান নেয়। কিছু পুলিশ সদস্যকে কার্যালয়ের ভেতরেও অবস্থান নিতে দেখা যায়।

বাবলু নিজে রংপুরে না এসে হেলিকপ্টারে তার ভাগ্নেসহ ৩ জনকে রংপুরে পাঠান। বিকেল ৪ টার দিকে ঢাকা থেকে একটি হেলিকপ্টার রংপুর ষ্টেডিয়ামে অবতরণ করে। এরপর ৩ জন যুবক অত্যন্ত গোপনে একটি গাড়িতে করে রংপুর রিটানিং অফিসারের কার্যালয়ে না এসে সরাসরি রংপুর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। আগে থেকে অবহিত করায় পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। এরপর ৪ টা ৫২ মিনিটে জিয়াউদ্দিন বাবলুর পক্ষে রংপুর দুই আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তার ভাগ্নে আদনান সহ তিন যুবক। তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করে দ্রুত উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করে রংপুর নগরীতে যান এবং সেখান থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে করে ফেরেন ঢাকায়।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির জানান, জিয়াউদ্দিন বাবলুকে এরশাদ রংপুর ২ আসনে মনোনয়ন দেননি। তারপরেও তিনি গত মঙ্গলবার গোপনে রংপুরে এসে মনোনয়নপত্র ক্রয় করে নিয়ে যান। বিষয়টি এরশাদ জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। তিনি আরও দাবি করেন, ‘এরশাদ যে তিনশ আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম তৈরী করে স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন তারই একটি ফরম বাবলু চুরি করেছেন। রংপুর ২ আসনের প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বাবলু এরশাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। পুরো দলের সাথে বেইমানি করেছেন।’

জিয়াউদ্দিন বাবলুর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।