ছাড়পত্র ছাড়াই অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গেলো ‘এলসিটি কাজল’!

ছাড়পত্র ছাড়াই অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গেলো ‘এলসিটি কাজল’!

ছাড়পত্র ছাড়াই অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গেলো ‘এলসিটি কাজল’!

নৌপথে চলাচলের কোনও অনুমতি ও ছাড়পত্র না থাকার পরও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন গেলো পর্যটকবাহী জাহাজ এলসিটি কাজল। প্রায় চারঘণ্টা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃপক্ষের কাছে আটক থাকার পর মঙ্গলবার বেলা সোয়া ২টার দিকে টেকনাফ দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। বিকাল ৫টার দিকে সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায় জাহাজটি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক (পরিবহন) মোহাম্মদ হোসেন জানান, সকালে জাহাজ কর্তৃপক্ষ কোনও ধরনের ছাড়পত্র দেখাতে না পারায় জাহাজটি আটকে দেন তারা। পরে স্থানীয় প্রশাসনের মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে জাহাজটি সাড়ে ৪ ঘণ্টা দেরিতে রওনা দেয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সূত্র জানান, মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) সকালে কোনও ছাড়পত্র ও অনুমতি ছাড়াই একটি পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে, এমন গোপন সংবাদ পেয়ে বিআইডব্লিউটিএ টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম টেকনাফ দমদমিয়া জেটি ঘাটে অভিযান চালায়। এ সময় এলসিটি কাজল কর্তৃপক্ষ কোনও ধরনের ছাড়পত্র বা অনুমতি দেখাতে পারেনি।

তিনি জানান, জাহাজের ফিটনেস সনদ, ভয়েজ লাইন্সেস, রুট পারমিট ও সময়সূচির কোনও ছাড়পত্র ছিল না। এছাড়া জাহাজের মাস্টার ও চালকেরও কোনও সনদপত্র নেই। এ রুটে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জাহাজটি চলাচল শুরু করেছে। ফলে জাহাজটি আটকে দেয়া হয়।

ওই সময় জাহাজে যাত্রী ছিল ৬৫০ জন। জাহাজের ধারণক্ষমতা ২৩১ জন হলেও এতে ৪১৯ জন যাত্রী বেশি ছিলেন। যাত্রীরা সবাই ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা করে।

ভ্রমণে আসা মিথিলা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ঘুরতে এসে জাহাজ কর্তৃপক্ষের প্রতারণার শিকার হয়েছি। তারা বলেছিল জাহাজ নিয়মিত এ রুটে চলাচল করে থাকে। কিন্তু এখানে আসার পর জানলাম, তারা এই বছর প্রথমবারের মতো যাচ্ছে।

অবশেষে যেতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত।

বিআইডব্লিউটিএ’র পরিদর্শক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলের জন্য যেসব ছাড়পত্র ও অনুমতির দরকার, এলসিটি কাজল জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনোটিই ছিল না। ফলে জাহাজটা সকালে আটকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো মতে মৌখিক অনুমতি নিয়ে জাহাজটি সেন্টমার্টিন যায়। তবে বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

নাম না বলার শর্তে এক জাহাজ পরিচালক বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও ছাড়পত্র ও অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচল বেআইনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ মিথ্যা কথা বলে ভ্রমণে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আসলে এখন অনিয়ম যেন নিয়ম, আর নিয়মই যেন অনিয়ম। তারা যা করেছে এতে সব জাহাজ কর্তৃপক্ষের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এলসিটি কাজল জাহাজের টেকনাফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মোহাম্মদ মনির কাগজপত্র না থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের কিছু ছাড়পত্র ছিল জাহাজের। একটা ছাড়পত্রের জন্য সমস্যা হয়েছিল। সেটি আবার সমাধান হয়ে গেছে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘এতগুলো শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে মানবিক চিন্তা থেকে জাহাজটি প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন যেতে দেয়া হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জাহাজটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ২৬ অক্টোবর থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। এই রুটে কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন ও বে-ক্রুস এবং গ্রিনলাইন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এরমধ্যে অনেক জাহাজেই অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ রয়েছে।