গোপালগঞ্জে নিখোঁজ টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে লাশ

তাবলীগ থেকে নিখোঁজ টেকনাফের জিয়া ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত!

‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবার মৃত্যুর খবর শুনে পিএসসি পরীক্ষা দিতে গেলো সৈয়দ নূর!

‘বন্দুকযুদ্ধ’ থেকে বাঁচতে তাবলীগ জামাতের চিল্লায় গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ইয়াবা কারবারে অভিযুক্ত টেকনাফের জিয়াউর রহমানের (৩৪)। তাবলীগের চিল্লায় থাকা অবস্থায় শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার এক মসজিদ এলাকা থেকে নিখোঁজ হবার দেড়দিনের মাথায় টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশ থেকে জিয়ার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার ভোরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি ও ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। গোলাগুলিতে তিন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ।

নিহত জিয়াউর রহমান কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ার হাজি নুরুল ইসলামের ছেলে এবং তিনি ৩ সন্তানের বাবা।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সাংবাদিকদের জানান, রোববার (২৫ নভেম্বর) ভোররাতে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে ইয়াবার চালান পাচার হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল সড়কের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি ঠের পেয়ে ইয়াবা কারবারিরা গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর ইয়াবা কারবারিরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ একটি দেহ পাওয়া যায়। পাশে একটি বিদেশী পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি ও ২০ হাজার ইয়াবাও পাওয়া যায়।

তিনি দাবি করেন, ওই সময় থানা পুলিশের এসআই শরীফুল (৩৫), কনস্টেবল ছোটন দাশ (২৩) ও মেহেদী হাসান (২১) আহত হন। আহত পুলিশ ও গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। সেখানে গুলিবিদ্ধকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহটি স্থানীয়রা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়ার হাজি নুরুল ইসলামের ছেলে জিয়াউর রহমান (৩৪) বলে সনাক্ত করেন।

ওসি জানান, আটক ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা কারবারী ও একাধিক মামলার আসামী। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।

সুত্র মতে, জিয়াউর রহমানের পরিবারের দাবি করে আসছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর জিয়া তাবলীগ জামাতে ৩ মাসের জন্য চিল্লায় যান জিয়াউর রহমান। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার একটি মসজিদের তাবলীগ জামাত থেকে পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোষাকধারী কিছু লোক তাকে গত শুক্রবার রাতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

এরপর তাবলীগের অন্য সাথীরা স্থানীয় থানায় গিয়ে বিষয়টি অবগত করেন বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমানের মামা নুর কালাম নুরু। তখন টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ জিয়াকে টেকনাফ থানা পুলিশ নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করলেও টেকনাফ থানা পুলিশ এটি অস্বীকার করে আসছিল।

নিখোঁজ হওয়ার একদিন এক রাত শেষ না হতেই জিয়ার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয় গেল টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে।

এই পুরো পরিবারে উৎকন্ঠা ও শোক বিরাজ করছে। আর স্থানীয়রা বলাবলি করছেন, ইয়াবা কারবারিরা বাঁচতে ধর্মীয় লেবাস ধরলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না।