কক্সবাজার-০২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া)

‘আইনি জটিলতা’য় হামিদ আযাদ, বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদ?

‘আইনি জটিলতা’য় হামিদ আযাদ, বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদ?

‘আইনি জটিলতা’য় হামিদ আযাদ, বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদ?

সমুদ্রজেলা কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসন নিয়েই আলোচনার শেষ নেই। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সেই শুরু থেকেই। এখন আলোচনা শুরু হয়েছে দুই দ্বীপ নিয়ে গড়া সংসদীয় আসন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন নিয়ে। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি এই আসনে বিএনপি নাকি জামায়াত থেকে প্রার্থী হচ্ছেন- সেই আলোচনা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে। দুই জোটের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী না হওয়া পর্যন্ত হয়তো চলবে এই আলোচনা। তবে এই মুহুর্তের আলোচনা ২৩ দলীয় জোট তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ নাকি জামায়াতের ইসলামীর এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ হচ্ছেন?

এতোদিন আলোচনায় ছিল এই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি নিজে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরমই সংগ্রহ করেননি। মাঝপথে দীর্ঘদিন দল থেকে বহিস্কৃত থাকা সাবেক সাংসদ আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ আবারও ফিরে এসেছেন বিএনপিতে। শেষবার এই আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি এবার পড়েছেন আইনি জটিলতায়। তাই এই আসনে শেষ মুহুর্তে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী কে হচ্ছেন- তার আলোচনাই চলছে সর্বত্র। চলছে নানা সমীকরণ।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো মতে, বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছে তা প্রায়ই নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত তাই আসনটি জামায়াতের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানের আযাদের নিশ্চিত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে হামিদুর রহমান আযাদ আইনী জটিলতায় নির্বাচন করতে পারবেন না বলে মনে করা হচ্ছে।

এই কথাটি জেলাজুড়ে চাউর হয়ে গেছে। তিনি নির্বাচন করতে না পারলে জামায়াতকে এই আসনটি ছাড়তে হবে। কারণ তাদের আর কোনো শক্তিমান প্রার্থী নেই। তিনি নির্বাচনে অনিশ্চিত হওয়ায় সদ্যপ্রয়াত জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহকে কক্সবাজার সদর-রামু আসনে মনোনয়নপত্র নিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল জামায়াতের দলীয় নেতৃত্ব।

সূত্রগুলো মতে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রার্থী না হলে এবং হামিদুর রহমান আযাদ প্রার্থী হতে না পারলে শেষ মুহুর্তে এই আসনটি পাবে বিএনপি।

এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন বিএনপির তিন প্রার্থী। তারা হলেন আলমগীর ফরিদ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নূরুল বশর চৌধুরী এবং মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কারান্তরীণ আবু বকর ছিদ্দিক। তিন প্রার্থীর মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে শক্তিমান প্রার্থী আলমগীর ফরিদ। কারণ তিনি দু’বারের সাবেক নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এছাড়াও গ্রুপিংয়ে দলীয় প্লাটফর্ম থেকে ছিটকে পড়লেও মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় এখনো ৮০ ভাগ বিএনপি তার পক্ষেই রয়েছেন!

অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে এই আসনটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে জয় নিশ্চিত করার জন্য এই আসনে শক্তিমান প্রার্থী দিতে চাইছে বিএনপি।

দলীয় সূত্র মতে, বড় কোনো অঘটন না ঘটলে এই আসনে বিএনপির মনোয়ন পাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও অবগত হয়েছেন এই আসনের ব্যাপারে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বড় ধরণের দর কষাকষি করে জিততে পারলে সেক্ষেত্রে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশরের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা-কর্মীদের মতে, গ্রুপিং জিইয়ে রাখতে না চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ এই ঝুঁকি নেবেন বলে মনে করছেন না তারা।

তারা বলেন, ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলমগীর ফরিদের ভাতিজা হাবিব উল্লাহ মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। তাই আলমগীর ফরিদকে মনোনয়ন না দিয়ে নুরুল বশরকে মনোনয়ন দিলে হাবিব উল্লাহ নির্বাচন করবেন। সে ক্ষেত্রে নৌকার জয় হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই এটা বিএনপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এসকল নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস, এই ঝুঁকি নিতে চাইবেন না সালাহউদ্দিন আহমদ। কারণ দলের এই দুর্দিনে ঝুঁকি নিয়ে জিততে না পারলে সেই দায়ভারও তাঁকেই নিতে হবে।

তাই অনেকেই মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত আলমগীর ফরিদই হচ্ছেন এই আসনে বিএনপির প্রার্থী!