নিজের অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে উধাও জাসদ নেত্রী!

নিজের অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে উধাও জাসদ নেত্রী!

নিজের অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে উধাও জাসদ নেত্রী!

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের জাসদের নেত্রী সিনথিয়া হক শান্তা গত দুইদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সিনথিয়া হক শান্তা (২৬) ভেড়ামারা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের জাসদ নারীজোটের সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৮ বছর আগে ভেড়ামারা পৌরসভার কিলিক মোড় এলাকার সিনথিয়া হক শান্তার সঙ্গে একই এলাকার মনোয়ার হোসেন মিঠুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরপর দুইজন পরিবারের লোকজনকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। দুই পরিবারের লোকজন প্রথম দফায় এ বিয়ে না মানলেও কিছুদিন পর মেনে নেন। ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কোলজুড়ে এসেছিল এক শিশু কন্যা।

সম্প্রতি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড জাসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান শান্তা। নেত্রী হওয়ার পর ভেড়ামারা পৌরসভার জাসদের আহ্বায়ক প্রত্যাশা শহীদের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে শান্তার।

পাশাপাশি দুইজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও নিজের মোবাইলে ধারণ করেন এই নেত্রী। মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি নিজের অজান্তে কয়েকদিন আগে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। শান্তার এমন খবর শুনে মিঠুন তাকে ডিভোর্স দেন। তাকে ডিভোর্স দিয়ে দেড় মাস আগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার একটি গ্রামে আবারও বিয়ে করেন মিঠুন।

সবকিছু ভুলে সংসার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিঠুন। কিন্তু শান্তা ও মিঠুনের সেই পুরনো সম্পর্ক জোড়া লাগায় কাউকে কিছু না জানিয়ে আবারও দুইজন পালিয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

নারীজোটের নেত্রী সিনথিয়া হক শান্তার বাবা সামসুল হক শান্তার উধাও হওয়ার ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, কোথায় গেছে আমি জানি না। এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় জিডি করেছি আমি। এ নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।

এদিকে, নিখোঁজ সিনথিয়া হক শান্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার সাবেক স্বামী মনোয়ার হোসেন মিঠুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তাদের দুইজনের মোবাইল বন্ধ রয়েছে।

ভেড়ামারা পৌরসভার জাসদের আহ্বায়ক প্রত্যাশা শহীদের সঙ্গে শান্তার পরকীয়া সম্পর্কের সত্যতা জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

ভেড়ামারা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শামীম বলেন, এমন ঘটনায় কেউ থানায় জিডি করেনি। কেউ যদি এ বিষয়ে জিডি করার কথা বলে থাকে সেটি মিথ্যা।

জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন বলেন, এমন ঘটনা আমি কাল শুনেছি।

তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শনিবার সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এলাকাবাসীর ধারণা শান্তা তার আগের স্বামী মিঠুনের সঙ্গে কাউকে না জানিয়ে পালিয়েছেন। গত দুইদিন ধরে শান্তা এবং তার সাবেক স্বামী মিঠুনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের দুইজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।