৭ মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিরোধিতা

বিতর্ক এড়াতে বদি বাদ, ‘নৌকা’ পাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী শাহীন চৌধুরী

সংবর্ধনা দিতে টেকনাফে প্রস্তুতি

বিতর্ক এড়াতে বদি বাদ, ‘নৌকা’ পাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী শাহীন চৌধুরী

বিতর্ক এড়াতে বদি বাদ, ‘নৌকা’ পাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী শাহীন চৌধুরী

বিতর্ক এড়াতে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের আব্দুর রহমান বদিকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। মনোনয়ন তালিকা থেকে তিনি বাদ পড়েছেন। তবে বদির বদলে তাঁর স্ত্রী শাহিনা চৌধুরীকে নৌকা মার্কার মনোনয়ন দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বদিকে নিয়ে বিতর্ক আছে। আমরা সে বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না। তাই মনোনয়নও দিচ্ছি না।

আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণার আগেই কক্সবাজারের বহুল আলোচিত উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের এমপি আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন চৌধুরীর ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী।

গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নিকট এমন প্রতিবাদ জানানো হয়।

এদিকে মনোনয়ন পাচ্ছেন এ রকম কথা প্রচারের পর এমপি বদির স্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে টেকনাফ সীমান্তে প্রস্তুতিও চলছে।

অপরদিকে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর সাংবাদিকদের জানান, এমপি বদির স্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যও নন। এমনকি তিনি টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফরমও পূরণ করেননি।

আওয়ামী লীগের দলীয় এসকল মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক কারবারি তালিকার শীর্ষে থাকা দুদকের তথ্য গোপন মামলায় তিন বছরের দণ্ডিত এমপি বদির স্ত্রীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া মানেই হচ্ছে মুদ্রার এপিট-ওপিট।

তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফরিয়াদ জানিয়েছেন, যাতে সীমান্তের একজন তালিকাভুক্ত মাদক সম্রাটের পরিবারের সদস্যকে মনোনয়ন না দিয়ে ত্যাগী আওয়ামী পরিবারের সদস্যকে দেয়া হয়।

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক দলীয় এমপি এবং টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জানান, তারা নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমপি বদির স্ত্রীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথা জানতে পেরেই গণভবনে ছুটে যান।

তিনি (অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী) বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বিনয়ের সঙ্গে বলি, আপনি মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে এমপি বদিকে মনোনয়ন দিচ্ছেন না এজন্য ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এমপি বদির স্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়া মানেই হচ্ছে-মাদকের এপিট-ওপিট কাজ করা।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী একথা শুনে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান তাঁর (অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী) আমলের কথা। তিনি (অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী) প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি যখন সীমান্তের আসনটিতে এমপি ছিলেন তখন ইয়াবা ছিল না এবং ফেনসিডিলও পাচার হত না।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য এমপি আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার বিষয় নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।

এমপি আবদুর রহমান বদির পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানাতে এ সময় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো ৭ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিক মিয়া, কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর ও উখিয়ার বাসিন্দা এবং এমপি বদির শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহ আলম, আওয়ামী তাঁতী লীগের সভাপতি সাধনা দাশ গুপ্তা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদ।

অপরদিকে এমপি আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহিন চৌধুরীর মনোনয়নের ব্যাপারে গণমাধ্যমে ঘোষণা দেয়ায় তাকে টেকনাফ সীমান্তে জমকালো সংবর্ধনা দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে। মনোনয়ন নিয়ে যেদিন রাজধানী ঢাকা থেকে এমপি বদির স্ত্রী কক্সবাজার আসবেন সেদিনের জন্য নেয়া হচ্ছে প্রস্তুতি।

টেকনাফের মাইক্রোবাস চালক মোহাম্মদ ইয়াকুব এ প্রসঙ্গে জানান, তাকে ইতিমধ্যে এমপি বদির পক্ষে বলে রাখা হয়েছে যাতে বিপুলসংখ্যক যানবাহন প্রস্তুত রাখতে। এসব যানবাহন নিয়ে টেকনাফ সীমান্ত থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে গিয়ে সংবর্ধনা জানানো হবে।