যেভাবে মারা গেলেন জিএম রহিম উল্লাহ

আগামী সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা নিয়ে কথা বলতে সোমবার (১৯ নভেম্বর) চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন জিএম রহিম উল্লাহ। সেখানে হোষ্টেলে থেকে লেখাপড়া করে তার বড় মেয়ে। রাজনৈতিক কাজ শেষে তিনি মেয়ের সাথে দেখা করে কক্সবাজার ফিরতে শুরু করেছিলেন বিকালে। সেই গাড়ি কক্সবাজার এসে পৌঁছায় রাত ৮টার দিকে। আর জিএম রহিম উল্লাহ চট্টগ্রাম থেকে ফিরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকায় তার শ্বশুরের মালিকাধীন আবাসিক হোটেল ‘সাগরগাঁও’তে উঠেন। এখানে মাঝে মাঝেই তিনি রাত কাটান। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখানেই রাত্রিবাস করতে হয়েছে। তেমনই একটি রাত ছিল সোমবার দিনগত রাত (মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর)।
জিএম রহিম উল্লাহর শ্যালক ও হোটেল সাগরগাঁও’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদুল ইসলাম জানান, জিএম রহিম উল্লাহ সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হোটেলের ৪-তলায় ৪১৬ নম্বর কক্ষে উঠেন।
তিনি জানান, সাধারণত তার ছোট বোনের জামাই জিএম রহিম উল্লাহ হোটেলে অবস্থান করলে সকাল ৯টার দিকে হোটেলবয়দের মোবাইল করে নাস্তার অর্ডার দেন। দুপুরে থাকলে খাবারের অর্ডার দেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নাস্তার অর্ডার না দেয়ায় হোটেলবয় তার (জিএম রহিম উল্লাহ) কক্ষের দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোন সাড়া না পেয়ে ‘ঘুমাচ্ছেন’ মনে করে আর ডাকাডাকি করেননি। বেলা ২টা পর্যন্তও ঘুম থেকে না উঠায় বা দুপুরের খাবারের অর্ডার না দেয়ায় হোটেলবয় বেলা আড়াইটার দিকে হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (শাহেদুল ইসলাম) বিষয়টি জানান। তিনি নিজেই হোটেলের সেই কক্ষের দরজায় এসে জোরে জোরে ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। তারপরও ভেতর থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় শাহেদুল ইসলামেরও সন্দেহ ও আশংকা মনে জাগতে শুরু করে।
শাহেদুল ইসলাম বলেন, ডাকাডাকির পরও রহিম উল্লাহ ভাইয়ের সাড়া শব্দ না পাওয়ায় রুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু ভেন্টিলেটর বেশি উচুতে হওয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তখন নিজের স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা দিয়ে রুমের ভেতরের ছবি তুলি।
তিনি আরও বলেন, ছবিতে দেখা যায় রহিম উল্লাহ ভাই উত্তর-দক্ষিণ বিছানায় বাম কাত হয়ে ঘুমিয়ে আছেন। কিন্তু আড়াইটা পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠা এবং ডাকাডাকিতেও কোন সাড়া না দেয়ায় বিকল্প চাবি নিয়ে রুমের দরজা খুলি। তখন দেখতে পাই, জিএম রহিম উল্লাহ মারা গেছেন। তার হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে।
শাহেদুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জানান, রাতের কোন সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জিএম রহিম উল্লাহর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও তাঁর শারীরিক কন্ডিশন তা বলছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রুমের দরজা খুলার আগ পর্যন্ত জিএম রহিম উল্লাহ যেভাবে বাম কাত হয়ে শুয়েছিলেন তাতেই মনে হয়, হৃদরোগে নয়- ঘুমের মধ্যেই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
তাদের মতে, জিএম রহিম উল্লাহ কোন ধরণের যন্ত্রণা ছাড়াই আল্লাহ’র ডাকে সাড়া দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী ও কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহ মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) কক্সবাজার-০৩ (সদর-রামু) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার কথা ছিল। জামায়াতের শহর, সদর ও রামু শাখার নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার জন্য সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এসে জিএম রহিম উল্লাহকে একের পর এক ফোন দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জিএম রহিম উল্লাহর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি আর কখনো সাড়া দেবেন না।