এখনও সরানো হয়নি সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানার!

এখনও সরানো হয়নি সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানার!

এখনও সরানো হয়নি সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানার!

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা ছিল ১৮ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে সকল নির্বাচনী প্রচারণামূলক সামগ্রী সরিয়ে ফেলতে হবে। সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পর্যটন শহর কক্সবাজারের বেশির ভাগ এলাকা থেকে কোন প্রচারনামূলক সামগ্রী এখনও সরানো হয়নি। দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানারসহ নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টার দেখা গেছে প্রায় সবখানেই।

তবে কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গনের একটি দেয়াল থেকে কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। মাটিতে স্তুপ হয়ে আছে ছেঁড়া সে সব পোস্টার।

এদিকে ইসির নির্দেশ অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন অভিযান এখনও চোখে পড়েনি। জেলা নির্বাচন অফিসেও এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এখনও যারা পোস্টার-ব্যানারসহ নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী সরাননি তাদের ব্যাপারে কি করেছেন? এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমদকে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নামছেন জানি। বিস্তারিত আমি জানি না। ডিসি সাহেব ভাল জানেন। ডিসি অফিস থেকে আপনাকে জানা লাগবে। ওরা আমাকে শুধু ইনফর্ম করেছে যে, তারা আজকে (১৯ নভেম্বর) নামতেছে। আর কিছু জানা নেই।’

এ বিষয়ে জানতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের দপ্তরে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে বারবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৮ নভেম্বর রাত ১২টার মধ্যে মার্কেট, রাস্তা-ঘাট, যানবাহন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ অন্যান্য জায়গায় যাদের নামে পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুনসহ প্রচার সামগ্রী রয়েছে তাদের এবং যে সকল ব্যক্তি বা যৌথ মালিকানাধীন ভবন, প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, যানবাহন ও স্থাপনায় প্রচার সামগ্রী রয়েছে সে সব প্রতিষ্ঠান ও মালিকদেরও স্ব স্ব উদ্যোগে এবং নিজ খরচে তা অপসারণ করতে হবে। এছাড়া এ বিষয়ে পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ প্রতিপালন করা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীকে এই আদেশ প্রতিপালন করার কারণে কারাদ- এবং জরিমানা করার বিধান রয়েছে। আর নির্বাচন কমিশন চাইলে প্রার্থীর প্রার্থিতাও এই অপরাধের জন্য বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

এদিকে কক্সবাজারের সব এলাকাতেই কমবেশি নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন এখনও রয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, তফসিল অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। প্রার্থীদের মনোননয়পত্র দাখিলের শেষ সময় ২৮ নভেম্বর, যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর। এদিন থেকেই প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে প্রচার করতে পারবেন।