‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবার মৃত্যুর খবর শুনে পিএসসি পরীক্ষা দিতে গেলো সৈয়দ নূর!

‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবার মৃত্যুর খবর শুনে পিএসসি পরীক্ষা দিতে গেলো সৈয়দ নূর!

‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবার মৃত্যুর খবর শুনে পিএসসি পরীক্ষা দিতে গেলো সৈয়দ নূর!

ভোর রাতে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন বাবা। আর সেই বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে গেলো পিএসসি পরীক্ষার্থী সৈয়দ নূর। সে বাড়ির কাছের টেকনাফ লেঙ্গুরবিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রোববার শুরু হওয়া পিএসপি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

পিএসসি পরীক্ষার্থী সৈয়দ নূর বর্ডার গার্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। তার বাবা ফরিদ আলম। যিনি আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে ‘আলম ডাকাত’ নামেই পরিচিত। তিনি রোববার (১৮ নভেম্বর) ভোর রাতে পুলিশের হাতে আটক হয়ে রাতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

টেকনাফ বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিন্দু লাল চাকমা নিশ্চিত করেছেন সৈয়দ নুর তার বিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসি সূত্র মতে, সকালে ছেলেটি (সৈয়দ নূর) যখন পরীক্ষার কেন্দ্রে এসে হলের মধ্যে ঢুকে তখন থেকেই সে কান্নাকাটি করছিল। তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করেন লেঙ্গুরবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষা সচিব মো. ইসমাঈল, হল সুপার কুতুব উদ্দিন, পরীক্ষা কক্ষের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মুফিজুর রহমান ও রেজুয়ানা।

তারা জানান, সৈয়দ নূর ওই কেন্দ্রের ১ নাম্বার কক্ষে পরীক্ষা দেয়। ওই কক্ষে শিক্ষার্থীর ছিল ৫০ জন। তার মধ্যে টেকনাফ বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সৈয়দ নুর নামে একজন শিক্ষার্থীও ছিল। তার রোল নাম্বার-১৮৭৫।

তাদের মতে, পরীক্ষার কেন্দ্রে ছেলেটি বারবার কান্না করছিল। সে শিক্ষকদের বলে, ‘আজকে তার বাবার মৃত্যু হয়েছে’, বলতেই সে আবারও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। শিক্ষকসহ সকলেই তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করেন।

রোববার ছিল ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা। তার বাবার মৃত্যু হলেও সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং ভালো লিখেছেও।

সৈয়দ নুর বলে, বাবার লাশটি রেখে কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিচ্ছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবার মৃত্যুর খবর পাই। পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে চাচারা আমাকে সাহস যুগিয়েছেন।

সে আরও বলে, আজকের বিষয়ের সব প্রশ্ন জানা থাকলেও খাতায় লিখতে খুবই কষ্ট হয়েছে। তারপরও শতভাগ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘বাবা হারানো শিক্ষার্থীর ওপর বিশেষ নজর রাখা হয়। সে ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।’