রোহিঙ্গা নিপীড়ন

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে ওই প্রস্তাব পাস করেছে সংস্থাটি।

ওই প্রস্তাবে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সে দেশের নাগরিকত্ব দেয়ারও দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত বছর জাতিসংঘের থার্ড কমিটিতে ওআইসির আহ্বানে একই ধরনের একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। পরে ওই প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে-ও পাস হয়েছিল।

শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে (থার্ড কমিটি) ১৪২-২৬ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। ভোট দানে বিরত ছিল ২৬টি দেশ। আর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে পরিচিত চীন, রাশিয়া, ক্যাম্বোডিয়া ও লাওস।

মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশান (ওআইসি)’র পক্ষে বাংলাদেশ এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)র পক্ষে অস্ট্রিয়া যৌথভাবে এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘে উত্থাপন করে।

গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবতা বিরোধী অভিযান শুরু করে। তাদের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে সংখ্যা ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। আগে থেকেই এখানে অবস্থান করছে আরো চার লাখ দেশত্যাগী মানুষ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১০ লাখের ওপর।

মিয়ানমার সেনাদের এই নির্যাতনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। এসব মানবাধিকার লঙ্ঘণের অপরাধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপের মুখে এই শরণার্থীদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে না চাওয়ায় ওই উদ্যোগ স্থগিত করা হয়েছে।

এ নিয়ে জাতিসংঘের বক্তব্য, মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি। আর এ কারণে তারাও এই মুহূর্তে প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে ।