‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়েই মাঠে নামলেন ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান!

দলীয় ফোরাম থেকে ‘গ্রীন সিগন্যাল’ পেয়েই মাঠে ফিরে এসেছেন কক্সবাজার-০৩ (সদর-রামু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ‘সংস্কারপন্থী’ বিএনপি নেতা হিসাবে পরিচিতি পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে চেয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে সহিদুজ্জামান নিজেই এই দাবি করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের গোলদীঘির পাড়স্থ নিজের বাসভবন ‘জামান ভিলা’র মজলিশে ঘুরফা’য় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
ওই মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এতদিন ‘গ্রিন সিগন্যাল’ না পাওয়ায় সরাসরি আমি বিএনপির দলীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ তৈরী হয়নি। এখন ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়েই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি এবং আজ শুক্রবার মনোনয়ন ফরম দলীয় কার্যালয়ে জমা দেবো।
তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ষ্পষ্ট করে জানান, বিএনপির মনোনয়ন না পেলে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন না।
তাঁর মতে, ইসলামী দলসহ অনেক রাজনৈতিক দল তাঁকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য যোগাযোগ করেছে। তিনি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে না যাওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও এখনও ওই সব দলের সুযোগ তাঁর জন্য উম্মুক্ত রয়েছে।
২০০৮ সালের দিকে দলের একটি অংশের সাথে নিজের ‘সংস্কারপন্থী’ পরিচয়ে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ভুল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই ভুলের শাস্তি আমি পেয়েছি। তা মেনেও নিয়েছি। তারপরও অন্য কোন দলে যাওয়ার কথা কখনো চিন্তা করিনি।
তিনি কেন এতদিন পর আবার রাজনীতির মাঠে ফিরে আসলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি সরাসরি বিএনপির দলীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও জনগণের সাথে সবসময়ই আমার যোগাযোগ ছিল। এখনও সাধারণ মানুষই আমাকে মনে রেখেছে এবং আবারও ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সহিদুজ্জামান আরও বলেন, রাজনীতির মাঠে কেউ কাউকে সুযোগ করে দেয় না। বরং কিভাবে একজনকে ঠেলে পিছনে ফেলে দেয়া যায় তার চর্চাই চলে। আমার বেলায়ও তাই হয়েছে। বিএনপির কর্মসূচীতে যাওয়া সুযোগ আমাকে দেয়া হয়নি।
সাংবাদিকদের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে নিজের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি মনে করেন, জনগণ আমাকে ভালবাসেন। তারা ভোট দিতে এখনো অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। ধানের শীষের টিকিট পেলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।
সহিদুজ্জামান বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নির্বাচন দরকার। সেই নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি দল ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব। নিজের চেয়ে আমার কাছে দল অনেক বড়। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল ও দেশের স্বার্থে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। সার্বিক বিবেচনা করে দল যাকে মনোনয়ন দিবে, তার পক্ষেই কাজ করব।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তাঁর সাথে ছিলেন ঈদগাঁও ফরিদ আহমদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ওমর ফারুক, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হক, সফিনা আজিম, আজিজুল হক সিকদারসহ দলীয় অনেক নেতাকর্মী ও আত্মীয় স্বজন।