ডিসি পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করা

ডিসি-এসপি আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন হাইকোর্টে স্বশরীরে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। বুধবার (১৪ নভেম্বর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ এই দুই কর্মকর্তা শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের পূর্বপাশে সৈকত পাড়াস্থ ডিসি পাহাড়ের সমস্ত অবৈধ স্থাপনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ না করায় আদালতের কাছে এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁরা বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের আদালতে স্বশরীরে হাজির হন।
আদালত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোন ধরণের গাফেলতি না করতে সতর্ক করেন।
দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ওই দ্বৈত বেঞ্চ ইতিপূর্বে সৈকত পাড়াস্থ ডিসি পাহাড়ের প্রায় ৫০ একর পাহাড়ি জমি দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের এই দুই কর্মকর্তা কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ১৪ নভেম্বর তাঁদের স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই আদালত।
দৈনিক বণিক বার্তার কক্সবাজার প্রতিনিধি ও ইয়ুথ এনভায়রণমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় জামিন দিয়ে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ এক মাসের মধ্যে ডিসি পাহাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন গত ৩ জুলাই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীর আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের পূর্ব পাশে সৈকত পাড়াস্থ ডিসি পাহাড়ের প্রায় ৫০ একর জমি দখল করে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ ও প্লট বিক্রি করে আসছে একটি সিন্ডিকেট। এ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে দৈনিক বণিক বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি পরিবেশ সংগঠন ইয়েস কক্সবাজারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৯ মে জহুরা বেগম নামের এক বিধবা মহিলাকে বাদি সাজিয়ে ইয়েস কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ও দৈনিক বণিক বার্তার কক্সবাজার প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ মামুনের বিরুদ্ধে একটি সাজানো ও মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন পরিবেশ বিরোধীরা। পরে পুলিশের তদন্তেও মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি না জানার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর এক সপ্তাহের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আমি কক্সবাজারে যোগদান করেছি আদালতের ওই নির্দেশনার অনেক পরে। তাই বিষয়টি জানার পরপরই আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’
”দৈনিক বণিক বার্তার কক্সবাজার প্রতিনিধি ও ইয়ুথ এনভায়রণমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, আদালতের এ নির্দেশনাটি ঐতিহাসিক। কারণ আদালতের এ নির্দেশনার ফলে একজন পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকের অধিকার ফিরে পেয়েছি। অপরদিকে পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যের প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ একটি পাহাড় সংরক্ষণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ মামুনকে আইনী সহযোগিতা দিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।