উখিয়ার কলেজছাত্রীকে গলা কেটে হত্যাকারি ‘প্রেমিক’ কবির বন্দুকযুদ্ধে নিহত

 

কক্সবাজারের কাছের উপজেলা উখিয়ায় কলেজছাত্রী শারমিন আক্তারকে গলা কেটে হত্যাকারী কক্সবাজার শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুল কবিরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ শহরের কবিতা চত্বরের ঝাউবাগান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ওই সময় লাশের কাছেই ৪০০ ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ গোলাবারুদ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত নুরুল কবির দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার টেকনাইফ্যা পাহাড় এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।

পুলিশের দাবি, দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলিতে কক্সবাজার শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুল কবির নিহত হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বিষয়টি নিশ্চত করেছেন।

তিনি জানান, শহরের কবিতা চত্বর এলাকায় ঝাউবাগানে একটি লাশ পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে নুরুল কবিরের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত নুরুল কবিরের বড় ভাই নুরুন নবি সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ সনাক্ত করেছেন।

নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা, অস্ত্র ও মারামারিসহ ৪টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা জানান, রাতে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এক পক্ষের সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান নুরুল কবির।

ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হবে। যে সন্ত্রাসী বাহিনী গোলাগুলি করেছে তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গত শনিবার (১০ নভেম্বর) উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখাঁ চরপাড়া গ্রামের কলেজছাত্রী শারমিন আক্তারকে (১৮) গলা কেটে হত্যা করে সন্ত্রাসী নুরুল কবির। দিনের আলোতে ঘরে ঢুকে ওই কলেজছাত্রীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়।

কলেজ ছাত্রী শারমিনের পরিবারের দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে শারমিনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বখাটে নুরুল কবির। এতে রাজি না হওয়ায় ঘরে ঢুকে লোমহর্ষক হত্যাকান্ড ঘটায় সন্ত্রাসী নুরুল কবির।

নিহত কলেজছাত্রী স্থানীয় চরপাড়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের মেয়ে। ওই কলেজছাত্রী চলতি বছর রত্পালং ইউনিয়নের পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে উখিয়া বঙ্গমাতা মুজিব মহিলা কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী ছিলেন।

ওইদিন সাংবাদিকদের নিহতের মা জাহানারা বেগম জানান, কক্সবাজার এলাকার টেকনাফাইপ্পা পাহাড়ের বাসিন্দা আব্দুল করিমের ছেলে নুরুল কবির (২৮) নামের এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সে ডাকাত প্রকৃতির ছেলে হওয়ায় মেয়ে কিছুতেই রাজি ছিল না। মেয়ের ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা করবে।

তাছাড়াও ছেলেটি সন্ত্রাসী হওয়ায় মেয়ে তাকে এড়িয়ে চলতো। কিন্তু পিছু ছাড়েনি সন্ত্রাসী নুরুল কবির। কলেজে যাওয়া আসার পথে প্রায় শারমিনকে উত্ত্যক্ত করতো। কিন্তু মেয়ে পাত্তা দিতো না তাকে। এতে নুরুল কবির ক্ষুব্ধ ছিল। কিন্তু এভাবে মেয়েকে ঘরে ঢুকে গলাকেটে হত্যা করবে তা জানা ছিল না বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের মা।