বিএনপির মনোনয়ন ফরম তুললেন সহিদুজ্জামান, সদর-রামুতে বদলে যাবে কী হিসাব-নিকাশ!

বিএনপির মনোনয়ন ফরম তুললেন সহিদুজ্জামান, সদর-রামুতে বদলে যাবে কী হিসাব-নিকাশ!

বিএনপির মনোনয়ন ফরম তুললেন সহিদুজ্জামান, সদর-রামুতে বদলে যাবে কী হিসাব-নিকাশ!

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) সংসদীয় আসনের বিএনপি দলীয় রাজনীতিতে হঠাৎ করেই যেন বদলে যাচ্ছে সবকিছু। সংস্কারপন্থী রাজনীতিকের অপবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বাইরে থাকা এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে এসেছেন। তিনি বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, মোহাম্মদ সহিদুুজ্জামানের মনোনয়ন ফরমের সংগ্রহের মধ্যদিয়ে সদর-রামু আসনের রাজনীতিতে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হবে।

সাবেক সাংসদ প্রকৌশলি মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান জানান, তিনি বুধবার দুপুরে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আগামি ১৬ নভেম্বরের মধ্যে দলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেবেন।

তিনি দাবি করেন, তিনি রাজনীতির আড়ালেও ছিলেন, তিনি আলোচনার বাইরেও ছিলেন না। তিনি সবসময়ই বিএনপির সাথেই ছিলেন।

তাঁর মতে, সংস্কারপন্থী রাজনীতিকের বিষয়টি কেবলই একটি অপবাদ। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তথা বিএনপির রাজনীতির প্রতি বিশ^স্থ।

বিএনপির মনোনয়ন ফরম তোলার পর প্রকৌশলী সহিদুজ্জামান তাঁর ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অনেক প্রতীক্ষা, ধৈর্য, অজানা আশংকা অতিক্রম করে এলাকাবাসী, বন্ধু শুভাকাংখীর ভালবাসায় নমিনেশন ফর্ম তুললাম। আল্লাহ যেন সব সৎ উত্তম মংগল দান করেন। সবার কাছে বিনীতভাবে দোয়ার আবেদন করছি।’

অন্যদিকে সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন ৫ বছর। তার আগেরবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মরহুম এডভোকেট খালেকুজ্জামানের ছোট ভাই প্রকৌশলী মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান।

আগামি সংসদ নির্বাচনে সবসময় আলোচনায় ছিলেন সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল। তিনিও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে, লুৎফুর রহমান কাজলই এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। তবে হঠাৎ করে প্রকৌশলী মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সাধারণের মতে, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) এবার সবকিছু পাল্টে নতুন হিসাব-নিকাশ হতে পারে। তবে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি একান্তই দলীয় ফোরামের ব্যাপার।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনটিতে জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির এডভোকেট মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান। এই আসনে তিনি রাজনীতির ধরণটাকেই বদলে দিয়েছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের মাত্র দুইদিন আগে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অসুস্থ হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। ওই সময়েই রাজনীতিতে আসেন এডভোকেট মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের ছোট ভাই প্রকৌশলী মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান। তিনিও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সুত্র মতে, পরেরবারের নির্বাচনে ‘সংস্কারপন্থী’ অপবাদ পেয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ সহিদ্জ্জুামান বিএনপির তথা চারদলীয় জোটের মনোনয়ন হারান। তখন মনোনয়ন পান লুৎফুর রহমান কাজল আর তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।