মহেশখালী-কুতুবদিয়া নয়, চকরিয়া-পেকুয়া

বিএনপির মনোনয়ন ফরম তুললেন সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্ত্রী হাসিনা আহমদ

কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এবং তাঁর সহধর্মিনী ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট হাসিনা আহমদ। তবে কক্সবাজার-০২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে সালাহ উদ্দিন আহমদ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

মঙ্গলবার বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সালাহ উদ্দিন আহমদ ও এডভোকেট হাসিনা আহমদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। এডভোকেট হাসিনা আহমদ ঢাকায় থাকলেও তিনি নিজে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে যাননি। আর সালাহ উদ্দিন আহমদ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরে অনুপ্রবেশ মামলায় অবস্থান করায় তাঁর পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়।

এডভোকেট হাসিনা আহমদের বরাত দিয়ে সালাহ উদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত সহকারী ও নিকটাত্মীয় সাফওয়ানুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে কারা তাদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তাদের নাম তিনি জানাতে পারেননি।

এদিকে বিএনপি দলীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ভারতে অবস্থানরত সালাহ উদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-০২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবার গুঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এমনও প্রচার ছিল, কক্সবাজার-০১ আসন থেকে এডভোকেট হাসিনা আহমদ ও কক্সবাজার-০২ আসন থেকে সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রতিদ্বন্ধিতা করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না।

সূত্র গুলো মতে, বিএনপি জোটগত নির্বাচনে যাওয়ায় কক্সবাজার-০২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনটি জোটের শরীকদল জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিপূর্বেও এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ প্রতিদ্বন্ধিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সূত্রগুলোর দাবি, এই আসনে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচন করতে না পারলে জেলা বিএনপির একজন নেতা, নয়তো মহেশখালী উপজেলা বিএনপির একজন নেতা প্রার্থী হতে পারেন।

অন্যদিকে সালাহ উদ্দিন আহমদ কিংবা তাঁর পক্ষে স্ত্রী এডভোকেট হাসিনা আহমদ কক্সবাজার-০২ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ না করলেও মহেশখালী বিএনপির একটি দল সালাহ উদ্দিন আহমদের জন্য এই আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

সালাহ উদ্দিন আহমদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী দলে ছিলেন মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল হক চৌধুরী, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরিফুল কাদের চৌধুরী, মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াদ মোহাম্মদ আরফাত, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাশেম, মহেশখালী উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি নুরুল আবছার, মহেশখালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম মাহবুব প্রমুখ।

এই ব্যাপারে সালাহ উদ্দিন আহমদ কিংবা হাসিনা আহমদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, সালাহ উদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বার ওয়ান-ইলেভেনের সময় রাজনৈতিক মামলায় সালাহ উদ্দিন আহমদ কারাগারে থাকায় এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁর সহধর্মিনী এডভোকেট হাসিনা আহমদ। তিনিও বিপুল ভোটে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়াকে উপজেলায় উন্নিত করেন এবং তিনি ৪ দলীয় সরকারে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালে ৪ দলীয় জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির দলীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারী আইন শৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে একদল অস্ত্রধারীর হাতে ‘অপহৃত’ হন। পরে দুইমাস দুইদিন পর তাকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি ওই সময় পথচারীদের সহয়তায় শিলং পুলিশের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। ওই সময় শিলং পুলিশ তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দেন। দীর্ঘ কয়েক বছর এই মামলার শুনানী শেষে সালাহ উদ্দিন আহমদকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। মামলায় খালাস পেলেও দুই দেশের আইনগত জটিলতার কারণে তাঁকে এখনো শিলংয়েই অবস্থান করতে হচ্ছে।