টেকনাফ সমুদ্র চরে পাওয়া গুলিবিদ্ধ লাশটি মিয়ানমারের শাহেদের

টেকনাফ সৈকতের বালুচরে সন্দেহভাজন মাদক কারবারির গুলিবিদ্ধ লাশ

টেকনাফ সৈকতের বালুচরে সন্দেহভাজন মাদক কারবারির গুলিবিদ্ধ লাশ

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের কাটাবনিয়া সৈকত এলাকা থেকে ‍উদ্ধার হওয়া গুলিবিদ্ধ সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারির পরিচয় মিলেছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ শাহেদ (২৫)। তিনি মিয়ানমারের নাগরিক। তার বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে। ওই এলাকার ফয়েজিপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাছিমের ছেলে তিনি।

পুলিশের ধারণা, নিহত যুবক একজন মাদক কারবারি। তার জ্যাকেটের পকেটে পাওয়া কিছু মুদ্রা ও নাম-ঠিকানায় ন্যাশনাল ভেরিফিগেশন কার্ড (এনবিসি) কার্ডের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশে তৈরি অস্ত্র (এলজি), দুই রাউন্ড গুলি ও এক লাখ ১৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (১১ নভেম্বর) সকাল সাতটার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া সৈকত সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্র জানান, রোববার সকালে সাবরাং কাটাবনিয়া সৈকত সংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ লাশটি দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন।

সূত্র মতে, লাশের পরনে ছিল লুঙ্গি ও জ্যাকেট। ওই সময় লাশটির হাতের মুঠোতে একটি এলজি, দুটি গুলি ও পাশে একটি ইয়াবা ভর্তি ব্যাগ পাওয়া যায়। ওই ব্যাগের ভেতর থেকে এক লাখ ১৯ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায়।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ দাশ জানান, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে লাশের পরনে থাকা জ্যাকেটের পকেট থেকে কিছু মুদ্রা ও নাম-ঠিকানার ন্যাশনাল ভেরিফিগেশন কার্ড (এনবিসি) পাওয়া যায়। সেগুলোতে তার পরিচয় নিশ্চিত হলেও লাশের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো আত্মীয়-স্বজন আসেনি।

লাশ নিতে কেউ না আসলে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুলকে দিয়ে লাশটি দাফনের ব্যবস্থা করা হবে, জানান তিনি।

ওসি বলেন, লাশের শরীরে চারটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। পুরুষ লিঙ্গ কাটা। মাথা, বুক ও পিটে এসব গুলির চিহ্ন আছে। ইয়াবার চালান পাচারের সময় দুই দলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তি গুলিতে নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের হাতে প্রচুর পরিমানের অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। তারা ইয়াবার চালান খালাসে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। কোনো কোনো সময় ইয়াবার চালান খালাসে স্থানীয় লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে ফাঁকাগুলি বর্ষণের ঘটনাও ঘটছে।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এ ঘটনায় ইয়াবা, অস্ত্র ও অনুপ্রবেশের অভিযোগে বৈদেশিক নাগরিক আইনে তিনটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।