সাংবাদিকদের বললেন রিকার্ড ব্রাইট

মিয়ানমারের দৃষ্টিভঙ্গি ফেরাতে হবে, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে হবে

সাংবাদিকদের বললেন রিকার্ড ব্রাইট

সাংবাদিকদের বললেন রিকার্ড ব্রাইট

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের কথা শুনলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনার।

রোববার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের কথা শুনেন তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জানিয়েছেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে বিচার পায় সে জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়াও জোর করে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না বলেও আশ্বস্থ করেছেন জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত।

তবে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলার পর ক্রিস্টিন এস বার্গনার সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

তার সাথে ছিলেন সিনিয়র রাজনৈতিক উপদেষ্টা এস ই এম জি ক্রাউজেন এ্যনি। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনিষ্টিটিউশন ফারুক আহমদ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মন্জুর হাসান।

রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের চিরতরে নির্মূল করতে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ড চালিয়েছে।

এদিকে একইদিনে থাইংখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলার পর বেলা বারোটায় কুতুপালং ট্রানজিট পয়েন্টের ভেতর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ডেপুটি এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী বুরো অফ রিফিউজি মাইগ্রেশন রিকাট অল ব্রাইট। তিনি বলেছেন, রাখাইনে বর্বর সংখ্যালঘু মুসলিম নিধনের ফলে বাস্তুহারা বিপুল মানুষের চাপ বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপেছে। দিন যতই গড়াচ্ছে ততই জটিল হচ্ছে ভয়াবহ মানবিক এই সমস্যা। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নানামুখী চাপেও নিজেদের অবস্থানের দৃষ্টিভঙ্গি ফেরাতে পারেনি অং সান সু চির দেশ।

তার মতে, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত এসকল রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের বারবার অত্যাচারের ফলে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ মানবিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে থাকব।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। গত কয়েক দশক ধরে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করে বর্তমানে প্রায় বারো লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান করছেন। রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেও তারা রাজি নয়।

ব্রাইট আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিয়ে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ করে দিতে হবে।

তার সাথে থাকা মিশন ইউএসএআইডি’র মিশন ডিরেক্টর ড্রেক ব্রাউন বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ফিরিয়ে নিয়ে ফের আগের মতো হলে চলবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে যেন ভালো মতো বাঁচতে পারে। তাদের সঙ্গে যেন অমানবিক আচরণ করা না হয়। রোহিঙ্গা মুসলমানরা যেভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নাগরিকদের রক্ষা করছে না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বে মিয়ানমারে সেনা শাসন থেকে গণতন্ত্রে ফেরার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্টের সক্রিয় সহযোগিতা ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের পদক্ষেপ না নেয়ায় সু চি এখন বিশ্বব্যাপী সমালোচনায় পড়েছেন। বার্মিজ নিরাপত্তা বাহিনীকে আইনের শাসন মেনে চলার আহবান জানাচ্ছি আমরা। আমরা বলছি, কোনো জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে যাতে আর ঘর হারাতে না হয় তা নিশ্চিত করুন। নাগরিকত্বসহ রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিন।

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর এক বছর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের আগমন থামছে না। ক্ষুধার্ত, নি:স্ব, আতঙ্কিত কয়েক রোহিঙ্গা গত দুদিন আগেও বাংলাদেশে ঢুকেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন।

দুদিন আগে আসা উম্মে কুলসুম নামে এক রোহিঙ্গা তরুণী বলেন, সীমাহীন নিপীড়নের পর গত বৃহস্পতিবার সীমান্ত পেরিয়ে বালুখালী ক্যাম্পে এক আত্নীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি।