দ্বিতীয় সেশনে প্রাপ্তি মুমিনুলের সেঞ্চুরি

মুমিনুল হকের সবশেষ সেঞ্চুরিটি এসেছিলো এই বছরের জানুয়ারিতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংসে ছিলো রানের বন্যা। এরপর হঠাতই সেই ব্যাটে রান খরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও হাসেনি তার ব্যাট। ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে অবশেষে রান খরা কাটালেন ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে।

প্রথম সেশনে ২৬ রানে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের ইনিংসটা গড়ে দিয়েছে মুমিনুল ও মুশফিকুর রহিমের দৃঢ়চেতা ব্যাটিং। মুমিনুল সেঞ্চুরি তুলে চোয়ালবদ্ধ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ব্যাট করছেন ১০৪ রানে। সিকান্দার রাজার বলে চার মেরে উদযাপন করেন নিজের সেঞ্চুরি। মুশফিকুর রহিম ব্যাট করছেন ৭১ রানে।

অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম আগের টেস্টে ইনিংস লম্বা করতে পারছিলেন না। এবার মুমিনুলকে সঙ্গী করে ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। দ্বিতীয় সেশন শেষে তাদের ১৮১ রানের জুটিতে দৃঢ় হয়েছে স্বাগতিকদের অবস্থান। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০৭ রান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে টস জয়কে মুখ্য হিসেবে দেখছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মিরপুর স্টেডিয়ামে টস জিতলেও শুরুর স্বস্তিটা দীর্ঘস্থায়ী ছিলো না টপ অর্ডারের ব্যর্থতায়। প্রথম সেশনে ৫৬ রান তুলতে গিয়ে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

টস জিতে রিয়াদ ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দ্বিতীয় টেস্টে নতুনভাবে শুরুর আশায়। কিন্তু প্রথম ইনিংসের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি তার সিদ্ধান্তের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায়। প্রথম দিকে সাবধানি শুরু করেও উইকেটে থিতু হওয়ার মানসিকতায় আবারও ব্যর্থ হয়েছেন হয়েছেন ইমরুল, লিটনরা।

সপ্তম ওভারে জার্ভিসের বলেই হয় শুরুর সর্বনাশ। শর্টার লেন্থের বল ইমরুল বুঝে ওঠার আগেই ভেতরের কোনায় লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপারের হাতে। এই জার্ভিসই এক ওভার বিরতি দিয়ে ফেরান লিটন দাসকে। মিড উইকেটে অলস ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন মাভুতার হাতে।

নতুন নামা মিঠুন অভিষেকটা রাঙাতে পারলেন না সফলতায়। বরং বিবেচনাহীন শট খেলে ব্যর্থতা সঙ্গী করে ফিরেছেন। তিরিপানোর একেবারের বাইরের বল অযথা খেলতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মিঠুন। আর এই অভিষেকে ৪টি বল খেলে বিদায় নিয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই।

দিনের তৃতীয় ওভারেই উইকেট পতনের মুহূর্ত তৈরি করেছিলেন জার্ভিস। তার শর্টার লেন্থের বল হাল্কা বাঁক নিয়েছিলো শরীরের একটু বাইরে থেকে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাচ আউটের আবেদন করলে আম্পায়ার ক্যাটেলবোরো আঙুল তুলে দিয়েছিলেন। লিটন রিভিউ নিলে বাতিল হয়ে যায় সেই আবেদন।

এই ধাক্কা সামলাতে ব্যাটিং করছেন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। মাঝে মুমিনুল একবার প্রাণ পেয়েছেন পয়েন্টে দাঁড়ানো ব্রায়ান চারির ব্যর্থতায়।