রামু

একসঙ্গে দুই বোনের আত্মহত্যা, রেখে গেলো চিরকুট

একসঙ্গে দুই বোনের আত্মহত্যা, রেখে গেলো চিরকুট

একসঙ্গে দুই বোনের আত্মহত্যা, রেখে গেলো চিরকুট

‘আমাদের মৃত্যুর জন্য বাবা-মা এমনকি পরিবারের কেউ দায়ী নয়’! এমন একটি চিরকুট লিখে একই রুমে আত্মহত্যা করেছে আপন দুই বোন।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজারের কাছের উপজেলা রামুর রশিদ নগর ইউনিয়নের সিকদারপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত মরদেহ ও চিরকুটটি উদ্ধার করেছে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি সাধারণের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আত্মহত্যাকারি দুই বোন মরজিনা আক্তার (১৭) ও তসলিমা আক্তার (১৩) রশিদনগর ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকার নজির হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল আলম ও রামু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুর সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় চৌকিদার জয়নাল উদ্দিনের বরাত দিয়ে ইউপি মেম্বার নুরুল আলম সাংবাদিকদের জানান, দিনের বেলা বাড়িতে মা-বাবা ও অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতে মরজিনা ও তসলিমা একই রুমে গিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের ভিমের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে। পরে তাদের ছোট ভাই ঝুলন্ত অবস্থায় বোনদের দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়।

পরে তারা রামু থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) লাশের সুরহতাল রিপোর্ট তৈরি করে থানায় নিয়ে যায়।

চৌকিদার জয়নাল জানান, মরজিনা আক্তারের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। আর তসলিমা স্থানীয় একটি হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। তবে তারা কি কারণে আত্মহত্যা করেছে কেউ বলতে পারেননি।

রামু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুর সাংবাদিকদের জানান, তাদের লিখে যাওয়া একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই চিরকুটে তারা লিখেছেন, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য মা-বাবা এমন কি পরিবারের কেউ দায়ী নয়’।

তিনি বলেন, মনে হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে তারা আত্মহত্যা করেছে। এরপরও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চলছে।

মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে, জানান ওসি মনসুর।