কক্সবাজার-রামুর দুই মামলায় আগাম জামিন পেলেন ৩৫ বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মী

কক্সবাজার-রামুর দুই মামলায় আগাম জামিন পেলেন ৩৫ বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মী

কক্সবাজার-রামুর দুই মামলায় আগাম জামিন পেলেন ৩৫ বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মী

কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও রামু থানায় দায়ের করা পৃথক ২টি মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের আরও ১৪ জন নেতাকর্মী। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই নেতা-কর্মীদের আগামি ৮ সপ্তাহের জন্য জামিন দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) হাইকোর্টের ১৬ নাম্বার আদালতের বিচারপতি রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমদের বেঞ্চ এই জামিন আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্ত বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলার আসামি কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল আলম বাহাদুর (ভিপি বাহাদুর), শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হাসান, কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিনারুল কবির আল আমিন, জামায়াত নেতা এম ইউ বাহাদুর, তারেক বিন মোকতার, হাসান মোঃ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ ইয়াছিন ও আয়াতুল্লাহ। আর রামু থানার মামলায় জামিনপ্রাপ্তরা হলেন রামু উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ফয়েজ উদ্দীন রাশেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন মেম্বার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মানোয়ার আলম, রামু উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান লুতু ও ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিল্লুর রহমান।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির নেতা-কর্মীদের উচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলের ব্যক্তিগত সহকারি মো. দেলোয়ার হোসেন।

এই জামিনের মধ্যদিয়ে দুই মামলায় ৩৫ জন নেতা-কর্মী আগাম জামিন পেলেন।

সূত্র মতে, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ২৮ অক্টোবর বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি সহিংসতা মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলায় ২০ জন নেতা-কর্মীকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৮ জনের আগাম জামিন হয়েছে উচ্চ আদালতে। ইতিপূর্বে আরও ১০ জন আসামি আগাম জামিন পেয়েছেন।

ইতিপূর্বে জামিন পাওয়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাশেদুল হক রাশেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মনির উদ্দিন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার রোমন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদত হোসেন রিপন, সাধারণ সম্পাদক ফহিমুর রহমান ফাহিম, যুগ্ন সম্পাদক মিজানুল আলম মিজান, কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক এনাম ও মহিউদ্দিন সিকদার।

দলীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, এই মামলার ১ নাম্বার আসামি মোকতার আহমদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আরেকজন আসামি লায়েক বিন ফাজেল দীর্ঘ প্রায় আড়াইবছর ধরে কাতারে অবস্থান করছেন।

তবে এই মামলায় এজাহারনামীয় আসামি না হলেও ‘হুকুমের আসামি’ হিসেবে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম রহিমুল্লাহ। তিনি ৫ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

অপরদিকে ২৯ অক্টোবর রামু দায়ের করা আরেকটি বিস্ফোরক মামলায় বিএনপির ১৬ জন নেতা-কর্মীকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছিল। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৬ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পান। এছাড়াও অপর ১০ জন আসামি ইতিপূর্বে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এনিয়ে এই মামলায় এজাহারনামীয় ১৬ জন আসামিই আগাম জামিন পেয়েছেন।

ইতিপূর্বে জামিন পাওয়া নেতা-কর্মীদের আছেন রামু উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমদ চৌধুরী মাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক-২ আবুল বশর বাবু, সহ-সভাপতি সাহেদুজ্জামান বাহাদুর, প্রচার সম্পাদক দিদারুল আলম (দিদার বলী), মহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরিদুল আলম ও রামু উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি কলিম উল্লাহ।

জামিনপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নাল আবেদীন ও এডভোকেট রায়হান।

এই আগাম জামিনের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও রামু থানায় পুলিশের নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াতের ৩৫ জন নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন।