সাগরপথে আবারও মানব পাচারের চেষ্টা, ১৪ নারী-পুরুষ রোহিঙ্গা উদ্ধার

সাগরপথে আবারও মানব পাচারের চেষ্টা, ১৪ নারী-পুরুষ রোহিঙ্গা উদ্ধার

সাগরপথে আবারও মানব পাচারের চেষ্টা, ১৪ নারী-পুরুষ রোহিঙ্গা উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল দিয়ে হঠাৎ করে সাগরপথে মানব পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া পাচারের নামে একটি প্রতারক চক্র বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রলোভনে ফেলে পাচারের ফাঁদ পেতে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমন একটি প্রতারনার শিকার ১৪ রোহিঙ্গা মালয়েশিয়াগামি যাত্রীকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) সদস্যরা।

তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন- এমন কথা বলে তাদের টেকনাফের উপকূলীয় সীমান্তে ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিজিবির টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমদ্দার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) ভোরে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর সংলগ্ন উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামি যাত্রী ১৪ জন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা হলেন উখিয়া উপজেলার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ ইয়াছিন (২২), বালুখালী ক্যা¤েপর মো. ইসলাম (২৬), থাইংখালী ক্যা¤েপর খাইরুল আমিন (১৮), একই ক্যা¤েপর রহিম উল্লাহ (১৬), জাকের আহমদ (১৯), কুতুপালং ক্যা¤েপর সাইদুল আমিন (১৯), তার ভাই মোহাম্মদ সুলতান (৪৫), ফরিদুল আলম (১৮), থাইংখালী ক্যা¤েপর নুর বাহার (১৮), বালুখালী ক্যা¤েপর বিবি খতিজা (১৮), মধুরছড়া ক্যা¤েপর খুরশিদা (১৮), একই ক্যা¤েপর রফিজা (১৮), থাইংখালী ক্যা¤েপর আনোয়ারা বেগম (১৮) ও টেকনাফ নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যা¤েপর মোহাম্মদ হোসেন (১৭)। এসকল রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

এদের মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা নারী যুবতী রয়েছেন।

সাগরপথে আবারও মানব পাচারের চেষ্টা, ১৪ নারী-পুরুষ রোহিঙ্গা উদ্ধার

গত বছরের আগষ্টে মায়ানমারে হত্যা, নির্যাতন ও বাড়ি ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটলে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এছাড়াও তারও আগে থেকে রয়েছে প্রায় ৪ লাখের মতো রোহিঙ্গা।

বিজিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, সাগরপথে মালয়েশিয়া মানব পাচারের একটি দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে টাকার বিনিময়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাবার জন্য গত চারদিন ধরে নৌকা নিয়ে সাগরে ঘুরানো হয়। গভীর সাগরে একটি বড় জাহাজে তাদের তুলে দেয়ার কথা ছিল। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ নাম্বার ব্লকের আয়ুব আলী নামের এক দালালকে প্রতিজন ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল।

তাদের সাগরে চারদিন সময় পার করার পর মঙ্গলবার ভোরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সাগরের তীরে থাইল্যান্ড পৌছে যাওয়ার কথা বলে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। পরে বিজিবির টহল দল তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা বিজিবিকে জানিয়েছেন, গত ২ নভেম্বর টেকনাফের কচুবনিয়া ঘাট থেকে নৌকায় মালয়েশিয়া উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল তারা।

টেকনাফস্থ বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমদ্দার বলেন, দালালের খপ্পরে পরে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল এমন ১৪ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই ভিকটিম। যার ফলে তাদের স্ব স্ব ক্যা¤েপ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে দালালদের নাম পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ২০০৭ সালের দিকে মানব পাচারের একটি চক্র টেকনাফের উপকূল ব্যবহার করে সাগরপথে মানব পাচার শুরু করেছিল। তারপর স্থানীয় ও পার্শ¦বর্তী রাষ্ট্র মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের অর্থের লোভে প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার লোকজনকে মালয়েশিয়ার নামে সাগরপথে মাছধরার ট্রলারে থাইল্যান্ড পাচার করেছিল। এদের মধ্যে কিছু লোক পৌঁছলেও অনেক লোকজন নিখোঁজ রয়ে যায়। কেউ সাগরে, আবার কেউ উপকূলে প্রাণ হারিয়েছেন।

সাগরপথে আবারও মানব পাচারের চেষ্টা, ১৪ নারী-পুরুষ রোহিঙ্গা উদ্ধার

অপরদিকে মানব পাচার রোধে সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। ২০১৫ সালের ৮ মে সাগরপথে মালয়েশিয়াা মানব পাচারের সংবাদে টেকনাফ মডেল থানার তৎকালিন ওসি মো. আতাউর রহমান খন্দকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযানে গেলে পাচারকারীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তিন শীর্ষ মানব পাচারকারি নিহত হয়। নিহতরা হলেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়া এলাকার মৃত সোলতান আহমদের ছেলে ধলু হোসেন, কাটাবনিয়া এলাকার আবদুল মাজেদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও হারিয়ারখালী এলাকার কবির আহমদের ছেলে জাফর আলম।

এসব ঘটনার পর পুলিশ মানব পাচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিলে মানব পাচারকারিরা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর থেকে টেকনাফ উপকূল দিয়ে সাগরপথে মানব পাচার একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের একটি চক্র আবারও মালয়েশিয়ার নামে সাগরপথে পাচারের ফাঁদ পেতেছে। এসব চক্রের ফাঁদে পড়েছেন এই ১৪ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। এই সব চক্র কারা তাদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থার দাবি করছেন এলাকাবাসি।