অপহরণের ৬ মাস পর উদ্ধার ইসলামাবাদের মাদ্রাসা ছাত্রী পপি

অপহরণের ৬ মাস পর উদ্ধার ইসলামাবাদের মাদ্রাসা ছাত্রী পপি

অপহরণের ৬ মাস পর উদ্ধার ইসলামাবাদের মাদ্রাসা ছাত্রী পপি

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আলোচিত অপহৃতা পপি সুলতানা রেশমিন ৬ মাস পর পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে। সে ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আউলিয়াবাদ গ্রামের সুলতান আহমদের মাদ্রাসা পড়–য়া মেয়ে।

পপি সুলতানা রেশমিনকে (১৬) বিগত ১১ এপ্রিল মাদ্রাসায যাওয়ার পথে অপহরণ করে নিয়ে যায় একই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে কলিম উল্লাহর (১৯) নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসি। অপহৃতা পপির বাবা সুলতান আহমদ তার ৮ম শ্রেণী পড়–য়া মেয়েকে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুজির পর না পেয়ে পাঁচদিন পর ১৬ এপ্রিল কক্সবাজার মডেল থানায় অপহরণকারি কলিম উল্লাহ ও অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে তার বোন খুরশিদা ও মা রাশেদা আক্তারকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।

সূত্র মতে, থানায় দেয়া অভিযোগের কোন সূরাহা না হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকেও মিমাংসার চেষ্টা চালানা। কিন্তু কোন সুরাহা না হওয়ায় সুলতান আহমদ বাদী হয়ে ২৭ আগষ্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (১) এ কলিম উল্লাহকে বিবাদী করে অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি মডেল থানার ইনচার্জ বরাবরে প্রেরণ করলে তদন্তের জন্য ঈদগাঁও পুুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শাহাজ উদ্দীনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন পর অপহরণকারির মা রাশেদাকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসলে তড়িঘড়ি করে কলিম উল্লাহ ও অপহৃতা পপি সুলতানা রেশমিকে চট্টগ্রাম থেকে কলিম উল্লাহর এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

অপহৃতা পপির সাথে কথা হলে সে বলে, স্থানীয় ওমর বিন হাত্তাব (রাঃ) দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর (রোল নাম্বার-১) ছাত্রী সে। অপহরণকারি কলিম উল্লাহ ও তার বাড়ি পাশাপাশি হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন যাবত সে তাকে বিভিন্ন ভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। লেখাপড়া ও বয়সের দিক চিন্তা করে বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি কলিম উল্লাহর মাকে বিষয়টি অবহিত করেন।

বারবার বারণের পরও তাকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে জোরপূর্বক সিএনজি যোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় কলিম উল্লাহ। কয়েকদিন পর তার বাবার কাছে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলে কলিম উল্লাহসহ ২/৩ জন ব্যক্তি তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে তার বোন খোরশিদা ও তার স্বামীর সহযোগিতায় একটি বাসায় আটকে রাখে। মাঝে মধ্যে মা রাশেদা আক্তার গিয়ে তাদের টাকা ও বাসার ভাড়া দিয়ে আসতেন। তাকে পিতার কাছে নিয়ে যেতে বললে, সে কৌশলে এলাকায় এসে বাদী সুলতান আহমদকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও পপি প্রতিবেদককে জানায়।

অবশেষে মাকে আটক করার সাড়ে ৩ ঘন্টার মধ্যেই অপহৃতাসহ হাজির হয় কলিম উল্লাহ।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই শাহাজ উদ্দীন জানান, বারবার অনুরোধের পরও মেয়েসহ কলিম উল্লাহ হাজির হয়নি।