জীবন দিয়ে খালেদাকে মুক্ত করবো: মান্না

জীবন দিয়ে হলেও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে শপথ গ্রহণ করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

‘সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি ও ৭ দফা দাবি আদায়’ উপলক্ষে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জনসভায় শুরুতেই পরিত্র কোরআন তেলাওয়াত পাঠ করেন ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক। পরে গীতাপাঠ করেন বিএনপি নেতা বাবু রমেশ দত্ত। এরপর ত্রিপিটক পাঠ করা হয় এবং বাইবেল পাট করেন যুবদলের নেতা এ্যালবার্ট প্রি কস্টা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও প্রধান বক্তা জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বেগম জিয়াকে সরকার জেলের মধ্যে মেরে ফেলতে চায়। কিন্তু আমরা এটা হতে দেবো না। জান যাবে, জীবন দেবো- কিন্তু খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকারে শেখ হাসিনা থাকতে পারবেন না। শেখ হাসিনা ও বর্তমান ইসির অধিনে কোন নির্বাচন হবে না। সংসদ বাতিল করতে পারবো। দাবি না মানলে, রাজপথে দাবি আদায় করবো।

মান্না বলেন, ৫ বছরে সরকার ভোটের নামে ভোট চুরি করেছে। ৫ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে ভোটার ছিল না। সামনে নির্বাচন। মাত্র ২ মাস সময় আছে। মানুষ বলে এবার কী ভোট দিতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা ভালো মানুষ। ড. কামাল আন্তর্জাতিক আইনজীবী বিজ্ঞ। সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন ড. কামাল। তিনি সংলাপে ৭ দফা দাবির কথা বলেছেন। কিন্তু ৭ দফার একটাও মানা হয়নি।

মান্না আরো বলেন, গণতন্ত্র চাই, সন্ত্রাস চাই না, আগুন সন্ত্রাস চাই না।

সংলাপের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, প্রথম দফা সংলাপে মুখে মুখে অঙ্গিকার করেছে। এবার লিখিত অঙ্গিকার করতে হবে। যেদিন অঙ্গিকার করা হবে, তার পরে থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে।

দেখা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাদদদ বিএনপি এবং এর অঙ্গ- সহযোগি সংগঠন, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রায় ১ লাখ নেতাকর্মীরা উপস্থিত রয়েছে। অনেকে পায়ে হেঁটে আবার অনেকেই বাসে করে এসে জনসভায় যোগ দিয়েছে।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে শাহবাগ মোড়, মৎস্য ভবন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে কঠোর নিরাপত্তার বলর গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরও দেখা গেছে।

অপরদিকে শাহবাগ মোড়, শিল্পকলা একাডেমীর সামনে ছোট ছোট ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির ও এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া অনেকেই রমনা পার্কের ভিতরেও অবস্থান নিয়েছে।

এর আগে সকাল পৌনে ১২ টা থেকে বিএনপির সংগঠন জাসাসের নেতৃত্বে জনসভায় গান পরিবেশন করা হয়। জনসভা শুরুর আগ পর্যন্ত এই গান পরিবেশন করা হয়।

জনসভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুব্রত চৌধুরী, আব্দুল মালেক রতন, তানিয়া রব, নুরুল আলম বেপারীসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমান উল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলালসহ জনসভায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

২০ দলীয় জোট নেতা মাওলানা নূর হোসেন কাসেমী, আন্দালিব রহমান পার্থ, সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম, মোস্তফা জামাল হায়দার, রেদোয়ার আহমেদ, আব্দুল লতিফ নিজামী, আহমেদ আব্দুল কাদের সভায় বক্তব্য রাখেন।