ভিজিট ছাড়াই গরীব-অসহায় রোগীদের চিকিৎসা দেন ডা. প্রসেনজিত

গরিব ও অসহায় রোগীদের কথা চিন্তা করে বেসরকারী হাসপাতালে নামে মাত্র ২০ টাকার টিকেটে উন্নত চিকিৎসা দিচ্ছেন কক্সবাজার শহরের সন্তান ডা. প্রসেনজিত চক্রবর্তী।
কোন ভিজিট ছাড়াই রোগীদের সেবা দিলেও হাসপাতালের ব্যবস্থপনার ক্ষেত্রে ২০ টাকা মূলের টিকেট বিক্রি করেন ডিজিটাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোগীদের প্রতিদিন এই চিকিৎসাসেবা দিতে না পারলেও সপ্তাহে তিনদিন চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন এই চিকিৎসক। প্রতি শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কক্সবাজার শহর ও শহরের বাইরে থেকে আসা রোগীদের স্বল্প খরচেই চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ডা. প্রসেনজিত চক্রবর্তী ২০১৪ সালে বিজিসি ট্রাষ্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। পরবর্তীতে মেডিসিনের উপর পিজিটি এবং ঢাকার বারডেম হাসপাতাল থেকে ডায়াবেটিসের উপর ডিগ্রী নিয়েছেন তিনি। চলতি বছরে জুন মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের যৌথ নিয়োগে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
সরকারী হাসপাতালের পাশাপাশি সপ্তাহে তিনদিন সুযোগ বের করে কক্সবাজারের স্থানীয় গরিব-অসহায় রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার কথা মাথায় রেখে বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন ডা. প্রসেনজিত চক্রবর্তী।

ডা. প্রসেনজিত চক্রবর্তী বাতব্যথা, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও মেডিসিন রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) তাঁর চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসা খুরুশকুলের কহিনুর আক্তার জানান, শহরের কাছাকাছি হলেও খুরুশকুল একটি গ্রাম। এই গ্রামে কোন এমবিবিএস কিংবা ডিগ্রীধারী কোন চিকিৎসক নেই। তাই ২০ টাকার টিকেটে আজকে পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে ডা. প্রসেনজিত চক্রবর্তীর কাছে এসেছেন।
কহিনুর আক্তার বলেন, ৫০০/৬০০ টাকা ভিজিট না নিয়ে খুব স্বল্প মূল্যে টিকেটে চিকিৎসা পাওয়াতে বেশ ভাল লাগছে। গ্রামের অসহায় ও দরিদ্ররা খুব সহজে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
বাংলাবাজার থেকে দরিদ্র বৃদ্ধ শফিক মিয়া এসেছেন শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিতে।
তিনি বলেন, বেসরকারী হাসপাতালে যেভাবে ভিজিটের কথা বলে টাকা আদায় করেন সেভাবে ভিজিট দেয়া কষ্ট হয়ে যায়। তাই ২০ টাকার টিকেটে ডাক্তার দেখাতে পেরে খুব ভাল লাগছে।
ডা. প্রসেনজতি চক্রবর্তী জানান, তাঁর বাবার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল যে, ছেলে ডাক্তার হয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় দরিদ্র-অসহায় রোগীদের বিনা পয়সায় কোন না কোন একদিন চিকিৎসা দিয়ে যাবেন। তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার শহরের ডিজিটাল হাসপাতালে চেম্বার করেন তিনি। এই তিনদিনে কোন রোগীর কাছ থেকে কোন ধরণের ভিজিট নেননা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ২০ টাকা মূলে টিকেট বিক্রি করেন।
ডা. প্রসেনজিত চক্রবর্তী কক্সবাজার শহরের খানাখা মসজিদ সড়কের স্বনাধন্য কাপড় ব্যবসায়ী অমরজিত চক্রবর্তী ওরফে স্বপন বাবুর বড় ছেলে।