অপহৃত সিটি কলেজ ছাত্রকে ৩ দিন পর টেকনাফ থেকে উদ্ধার, অপহরণকারি আটক

অপহৃত সিটি কলেজ ছাত্রকে ৩ দিন পর টেকনাফ থেকে উদ্ধার, অপহরণকারি আটক

অপহৃত সিটি কলেজ ছাত্রকে ৩ দিন পর টেকনাফ থেকে উদ্ধার, অপহরণকারি আটক

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে অভিযান চালিয়ে মোঃ লুৎফুর রহমান কাজল (১৮) নামের এক অপহৃত যুবককে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। ওই যুবক হলেন উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মোহাম্মদ শফির বিল এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।

এই সময় অপহরণকারি চক্রের এক সদস্যকেও আটক করে র‌্যাব। মোঃ নুরুল আলম (২৮) নামের ওই অপহরণকারি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার মৃত কবির আহম্মদের ছেলে।

র‌্যাব-৭, কক্সবাজার কোম্পানির অধিনায়ক মেজর মোঃ মেহেদী হাসান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তারই নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল টেকনাফের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়। এ সময় অপহরণকারি চক্রের সদস্যরা ভিকটিমসহ মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে আসলে র‌্যাব সদস্যরা আবুল আলম ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য মোঃ নুরুল আলমকে আটক করে এবং ভিকটিম মোঃ লুৎফুর রহমান কাজলকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ওই সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য অপহরণকারিরা দৌঁড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অপহৃত মো. লুৎফুর রহমান কাজল কক্সবাজার সিটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কক্সবাজার শহরে বাসা ভাড়ায় থাকেন। গত পহেলা নভেম্বর বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তার মোবাইল নাম্বার থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পরিবারকে জানিয়ে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়।

ডাকাত দলের সদস্য অপহরণকারি নুরুল আলম জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ভিকটিমের কলেজ বন্ধু হ্নীলা বাজারের মোঃ তারেক (২০) গত বৃহস্পতিবার কলেজ শেষে ভিকটিমকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে একটি মাইক্রোবাসে উঠায়। পরে ভিকটিমের বন্ধু তারেকসহ অন্য সহযোগী অপহরণকারি হ্নীলার রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া এলাকার মোঃ রমিজ মিয়া এবং মোঃ সুমন মিয়া ভিকটিমকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ফেলে রাখে।

র‌্যাব সূত্র জানান, গত ২ নভেম্বর উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মোহাম্মদ শফির বিল এলাকার মোঃ নুর হোছন বুলু তার ছেলে অপহরণের বিষয়ে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেন। তার ছেলে ভিকটিম কাজলকে অপহরণ করে মুঠোফোনে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। যদি মুক্তিপণের টাকা না দিলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এতে অপহৃতের পরিবার কোন উপায় না পেয়ে উখিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডাইরিসহ কক্সবাজার র‌্যাব ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতায় অপরহণকারিরা মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহে টেকনাফের হ্নীলা রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকায় আসার খবরে র‌্যাব দল সেখানে অবস্থান নেয়। পরে অপহৃত ভিকটিম ও অপহরণকারিকে আটক করা হয়।

মেজর মেহেদী হাসান জানান, আটক অপহরণকারি এবং উদ্ধার হওয়া ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর থানায় হন্তান্তর করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।