ডিসিকে লিখিত অভিযোগ

মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াসিমের নির্যাতনের প্রতিকার চাইলেন ৫১ আ.লীগ নেতা

মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াসিমের নির্যাতনের প্রতিকার চাইলেন ৫১ আ.লীগ নেতা

মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াসিমের নির্যাতনের প্রতিকার চাইলেন ৫১ আ.লীগ নেতা
কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা মগনামা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দমন পীড়নের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৫১ জন নেতা। তারা চেয়ারম্যান ওয়াসিমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওই অভিযোগ জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখায় জমা দেয়া হয়েছে।

ওই অভিযোগে বলা হয়, মগনামা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের আইন-শৃখলা বিরোধী কর্মকান্ডে অত্যাচার ও নির্যাতিত হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তার নির্যাতনের শিকার হয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মোস্তাকসহ অনেকেই গ্রামছাড়া হয়েছেন। ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান ওয়াসিমের অপকর্মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণও অতিষ্ট হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে দরখাস্ত করেছেন।

লিখিত এই অভিযোগে দাবি করা হয়, ওয়াসিম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীদের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু করে। তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মীদের বাড়িঘরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ দিনদুপুরে গুলি করার মতো ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের এই চেয়ারম্যান।

অভিযোগে চেয়ারম্যান ওয়াসিমের অপকর্মের ফিরিস্তি দিয়ে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৫ জুন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সোলতান মোহাম্মদ রিপনকে গভীর রাতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে দেয়। ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। একই বছর ২ আগস্ট সন্ধ্যায় মগনামা ফুলতলা ষ্টেশনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল এনামকে অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই ২৮ আগষ্ট ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নুরুন্নবীকে মারধর করে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়। পরদিন ২৯ আগস্ট যুবলীগ সভাপতি ব্যবসায়ী নুরুচ্ছফাকে কিরিচের কোপে রক্তাক্ত করে তার গাড়ি লুটপাট করা হয়। ইতিপূর্বে ১৮ জুন ইউপি সদস্য নুরুল আজিমকে চেয়ারম্যান ওয়াসিমের সন্ত্রাসীরা মারধর করে। ৩ অক্টোবর আওয়ামী শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আয়াত উল্লাহকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। একই বছর ১৫ নভেম্বর দক্ষিণ মগনামা শুদ্ধখালী পাড়ায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের লবণের মাঠে প্রকাশ্য দিবালোকে শত রাউন্ড গুলি চালিয়ে মাঠ দখল করে নেয় চেয়ারম্যান ওয়াসিম।

অভিযোগ সূত্র মতে, ২০১৭ সালের ৪ জুন মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী বাবুলের উপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে ৩য় শ্রেণীর স্কুলছাত্রসহ ১৮ জন গুলিবিদ্ধ হন। একই ৩০ মার্চ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ তৈয়বকে ১০টি ছুরিকাঘাত করে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই করা হয়। সর্বশেষ চলতি ২০১৮ সালের ১৩ জানুয়ারী পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রাজুর পরামর্শে মগনামার চেয়ারম্যান ওয়াসিম ২০০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় প্রায় ৫০০ রাউন্ড গুলি করে ইউনুস চেয়ারম্যানের বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং তার মা বোনকে মারধরসহ ইউনুস চেয়ারম্যানকে রক্তাক্ত জখম করে লবণের মাঠে ফেলে দিয়ে যায়।

অভিযোগকারীদের মতে, প্রতিটি ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া অভিযোগে যে ৫১ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা স্বাক্ষর করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ খায়রুল এনাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী বাবুল, পেকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোঃ আলমগীর, সহ-সভাপতি মোঃ নাজিম উদ্দিন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসেম, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মগনামা ইউপি সদস্য ইমরুল আজিম, ইউপি সদস্য জাইদুল হক, মগনামা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সোলতান মোহাম্মদ চৌধুরী রিপন, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি এজারুল হক, সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির প্রমুখ। আবেদনকারীদের মধ্যে মগনামা ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন।