আলোচনা ফলপ্রসু, এই সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাবেন বি.চৌধুরী

আলোচনা ফলপ্রসু, এই সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাবেন বি.চৌধুরী

আলোচনা ফলপ্রসু, এই সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাবেন বি.চৌধুরী

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সংলাপ শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের নেতা ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুশি হয়েছি এই জন্য যে আমাদের কথাগুলো পরিষ্কারভাবে বলতে পেরেছি। সেই ভিত্তিতে কয়েকটা কথায় মতৈক্য হয়েছে।’

সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিকল্প ধারার সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কথাগুলো তারা গ্রহণ করেছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।’

বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সংলাপ খুব ভালো হয়েছে। এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব।’

যুক্তফ্রন্টের সাত দফা দাবির মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে ভোটের কথা ছিল, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মান্নান বলেন, ‘সেই দাবি তো আমাদের আছেই। কিন্তু আমরা নির্বাচনে যাব।’

এর আগে গণভবনে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের সংলাপ হয়।

যুক্তফ্রন্টের দাবিগুলো হল
নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া না গেলেও নিষ্ক্রিয় করা: নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অর্থাৎ সবার জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সম্ভব না হলে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। এজন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার: নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন শতভাগ রাষ্ট্রপতির অধীনস্থ করতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর এমপিরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনও প্রকল্প উদ্বোধন বা প্রতিশ্রুতি যাতে না দিতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইন করে মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে। সরকারি দলের প্রার্থীদের বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করতে হবে।

জাতীয় সরকার গঠন: নির্বাচনকালীন সরকার চাই। জাতীয় সরকার গঠন: প্রয়োজনে এক দিনের জন্য সংসদ ডেকে জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। অথবা মন্ত্রিপরিষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা জোট থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েও একটি সন্তোষজনক নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। নির্বাচনে সকল প্রকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার অথবা বর্তমান সরকারের নির্বাচন বিষয়ে সম্পূর্ণ ক্ষমতা সীমিত করতে হবে।

সীমিত ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করা: আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী আমাদের জন্য গর্বের। তারা বিভিন্ন দেশে নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ সুনামের সঙ্গে করে আসছে। সুতরাং নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলার বিঘ্ন না ঘটে-সেহেতু আমাদের প্রস্তাব:

ক. সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে এবং নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর পর্যন্ত মোতায়েন করতে হবে।

খ. নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনীকে সীমিত ক্ষমতা দিতে হবে যেমন, আটক রাখার ক্ষমতা ও তাদের ভোট কেন্দ্রে থাকতে দিতে হবে। যাতে করে ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।

ইভিএম বাতিল: আধুনিক এবং বিজ্ঞানমনস্ক নির্বাচনে আমাদের অনেক আগ্রহ আছে, কিন্তু ইভিএম সম্পর্কিত যেসব প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন প্রয়োজন তা আমাদের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথেষ্ট নেই। সেজন্য এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সঠিক হবে না বলে আমরা মনে করি।

রাজবন্দীদের মুক্তি: নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে আটক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

নির্বাচন সম্পর্কিত মামলা প্রত্যাহার: নির্বাচন সম্পর্কিত মামলা নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন অতি সত্বর প্রণয়ন করতে হবে।

বৈঠক শেষে বের হয়ে যাবার সময় যুক্তফ্রন্ট নেতা বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি জেবেল রহমান গাণি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি আমাদের কথা ধৈর্যসহকারে শুনেছেন। আমরা আশা করছি নির্বাচনে যাব।

বিকল্পধারার সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা বলেন, দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। আমরা তার কথায় সন্তুষ্ঠু। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধাbমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন কালীন সময়ে তফসিল ঘোষণার পর কেউ মন্ত্রী হিসেবে পতাকা ব্যবহার করবেন না। তারা শুধুমাত্র নিয়মতান্ত্রিক দাফতরির দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন।