‘উইনিং কম্বিনেশন’ নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ

উইনিং কম্বিনেশন’ ধরে রাখতে চায় সবাই। হঠাৎ কোনো ইনজুরি না হলে সাধারণত উইনিং কম্বিনেশনে হাত দেয়ার নজিরও খুব কম। সর্বশেষ খবর, আজ গায়ানার প্রোভিডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশেও কোনো পরিবর্তন আসছে না। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জাগো নিউজকে আজ রাতে নিশ্চিত করেছেন, ‘কোন রদবদল নেই, প্রথম ম্যাচ খেলা দলটিই আজ আবার মাঠে নামবে।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রথম ম্যাচ মানেই তামিম-সাকিব জুটির অসাধারণ ব্যাটিং। দায়িত্ব সচেতনতার বিজ্ঞাপন। শেষ দিকে মুশফিক ঝড় আর অধিনায়ক মাশরাফির চমৎকার দল পরিচালনার পাশাপাশি অতি কার্যকর ও বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং। মূলত এই ক’টির সমন্বয়ে ২২ জুলাই এই গায়নার প্রোভিডেন্সেই জিতেছে বাংলাদেশ।

জয়ের রূপকার, স্থপতি আর নায়ক যাই বলা হোকনা কেন, ওই চারজনই। বাকিদের পারফরমেন্স মোটেই উজ্জ্বল ছিল না। কেউ সেভাবে অবদানও রাখতে পারেননি। বিশেষ করে ওপেনার এনামুল হক বিজয় আর মিডল অর্ডার সাব্বির রহমান চরম ব্যর্থ। বিজয় ০ রানে আউট হয়ে বিদায় নিয়েছেন দ্বিতীয় ওভারেই। মোটা তাজা স্কোর বোর্ড, শতরান পূর্ণ করা তামিম ইকবাল অপর প্রান্তে ওয়েল সেট। হাতে উইকেট ছিল আট-আটটি; এমন অতি মজবুত অবস্থায়ও ৩ রানে আউট হয়েছেন সাব্বির।

যদিও তার স্টাম্পিংটা নিয়ে বিতর্ক আছে। ভিডিও রিপ্লেতে দেখা গিয়েছে তার পা পপিং ক্রিজের ভিতরেই ছিল। আম্পায়ার আউট না দিলেও পারতেন। তারপরও এটাও সত্য যে, ঐরকম রমরমা অবস্থায় স্পিনের বিপক্ষে সাব্বিরের পরাস্ত হওয়াইটাই যে প্রশ্নবিদ্ধ। সবার কথা, অমন সুদৃঢ় ভীতের ওপর দাড়িয়ে কোথায় উইকেটে গিয়ে তেড়েফুড়ে শট খেলবেন, চার-ছক্কার নহর বইয়ে দেবেন। তা না, উল্টো স্পিন বলে জায়গায় দাড়িয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে না পেরে স্টাম্পড। এটাই বড় ব্যর্থতা।

অনেক কথা। আজ ওই দুজনকে খেলানোর যৌক্তিকতা নিয়েও ভক্ত ও সমর্থক মহলে অনেক কথা। এনামুল হক বিজয় আর সাব্বির আদৌ খেলবেন কি-না? তা জানতে চেয়ে মিডিয়া হাউজে অনেক ফোন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেক স্ট্যাটাস। কমেন্ট। তবে শেষ পর্যন্ত দলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

জানা গেছে, বিশ্বকাপের আগে তামিম ইকবালের সম্ভাব্য সঙ্গী খোজার মিশন চলছে। সেখানে কয়েকটি অপশন থাকলেও আপাতত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ফার্স্ট চয়েজ হচ্ছেন এনামুল হক বিজয়। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাবার আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেও গেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটি থেকেই আমি বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে চাই। এ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় দল সাজানোর আগে কজনকে পরখ করে নেয়ার ইঙ্গিতও দিয়ে গেছেন মাশরাফি। তার মধ্যে এনামুল হক বিজয়ের নাম সরাসরি উচ্চারিত হয়েছে তার কণ্ঠে। জানা গেছে বিজয়কে তামিমের সম্ভাব্য ওপেনিং পার্টনার হিসেবে বিজয়কে পরখ করে দেখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

জানা গেছে, আজকের ম্যাচে বিজয়ের জায়গায় নাজমুল হোসেন শান্তকে খেলানো যায় কি-না তা নিয়েও কথা উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখতে এবং বিজয়কে আরও একটি সুযোগ দেয়ার চিন্তায় রেখে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বাকিদের নিয়ে সে অর্থে ভিন্ন মতো নেই। সাব্বিরকে নিয়ে কথা হয়নি। রাজশাহীর এ সাহসী যুবা যে হাত খুলে উইকেটের সামনে-পিছনে আর দুদিকে সমান সাবলীল এবং হাত খুলে শটস খেলতে পারেন; তা সবারই জানা। তাই তার ব্যাটিং সামর্থের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা দুই’ই আছে টিম ম্যানেজমেন্টের।

তবে এটাও সত্য, সাব্বিরের ব্যাট কথা বলছে না বেশ কিছু দিন ধরেই। যে কোনো কারণেই হোক রান খরায় ভুগছেন সাব্বির। ধারণা করা হয় মাঠের বাইরের অনভিপ্রেত ঘটনা তার ব্যাটিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তারপরও সাব্বির ফর্মে ফিরলে দলেরই মঙ্গল। মিডল অর্ডারে একজন ফ্রি স্ট্রোক মেকার যে খুব দরকার বাংলাদেশের। ওই জায়গায় তার চেয়ে ভালো বিকল্প আসলে নেইও। দেখা যাক প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেড়ে মুছে বিজয় ও সাব্বির আজ দ্বিতীয় খেলায় নিজেদের মেলে ধরে ক্যাপ্টেনের বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে পারেন কি-না ?