ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন

উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে তদারকির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে তদারকি করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধন করে এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার ধারাবাহিকভাবে দুবার ক্ষমতায় থাকায় উন্নয়ন কাজে গতি এসেছে। দারিদ্র্য মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে। তাই সরকারের উন্নয়ন কাজগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকদের তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।’

এ সময় তৃণমূলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভিক্ষুকমুক্ত দেশ গড়তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।
বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মসজিদ এবং ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণ করছি। এখানে অনেক জায়গা পাওয়া গেছে, আর যেখানে পাওয়া যায়নি সেখানে দ্রুত জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত যাতে দ্রুত কাজ শুরু করতে পারি।’
সরকার বিভিন্ন মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের স্কুলের মাঠ, কলেজের মাঠ সেখানে লেখাপড়া বন্ধ করে খেলাধুলার চর্চা হোক আমরা তা চাই না। তবে উপজেলা কিংবা জেলা শহর থেকে এটি যাতে একটু দূরে হয়।’
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্টেডিয়ামকে ঘিরেই একটি শহর গড়ে উঠবে। সেখানে এক খণ্ড জমি দেওয়া এবং এই মিনি স্টেডিয়ামটি করে দেওয়া যাতে ১২ মাস সেখানে খেলাধুলার চর্চা হতে পারে। কারণ ছেলেমেয়েদের যতই আমরা এর মধ্যে সম্পৃক্ত রাখতে পারব ততই তারা বিপথ থেকে দূরে থাকবে, সে ব্যবস্থাটা আপনার করে দেবেন।’
এ সময় প্রতিবন্ধী, অশিক্ষিত এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পার্বত্য জেলাসমূহের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং বনাঞ্চল, নদী, জলাশয়ের সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া পর্যটন শিল্প, কুটির শিল্প ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আমরা একটি পরিকল্পিতভাবে শহর গড়ে তুলতে চাই। তার জন্য একটা মাস্টারপ্লান করা একান্তভাবে দরকার। আমার কৃষি জমি, বনায়ন সেগুলো যেমন সংরক্ষণ করতে হবে, আবার শিল্পায়ন এবং গ্রামের মানুষের যেন একটু আধুনিক সুবিধা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারে সে ব্যবস্থাও করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হলো প্রতিটি গ্রাম যেন শহর হিসেবে গড়ে উঠে এবং গ্রামের মানুষ যেন সমানভাবে নাগরিক সুবিধা পায়। তাহলে আর মানুষ শহরমুখী হবে না।’
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সেবা এবং জনগণের সেবা করাই আমাদের কাজ। আমরা যেটা জনগণের কল্যাণে করতে চাই এটা আপনারা বাস্তবায়ন মাঠ পর্যায়েই করে থাকেন। কাজেই যত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন দেশকে আমরা ততই এগিয়ে নিতে পারব।’
এ সময় মানুষের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে সারা দেশে ডিজিটাল সেবা সেন্টার প্রতিষ্ঠার কথাও জানান শেখ হাসিনা।
প্রতি বছর এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলার ডিসিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতি-নির্ধারকরা। এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত ডিসিদের ৩৪৭টি প্রস্তাব থাকছে। আগামী ২৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।