মেয়র প্রার্থী সরওয়ারের ১০ দফা ইশতেহার

কক্সবাজার পৌরসভায় ‘নীলনকশা’র নির্বাচন হলে লাগাতার হরতাল

কক্সবাজার পৌরসভায় ‘নীলনকশা’র নির্বাচন হলে লাগাতার হরতাল

কক্সবাজার পৌরসভায় ‘নীলনকশা’র নির্বাচন হলে লাগাতার হরতাল

কক্সবাজার পৌরসভার বর্তমান নির্বাচিত মেয়র, আগামি ২৫ জুলাইয়ের পৌর নির্বাচনে নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামাল দাবি করেছেন, ভোট ডাকাতি, ষড়যন্ত্রমূলক ও নীলনকশার নির্বাচন করতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সহ¯্রাধিক সন্ত্রাসি ও ডাকাত বর্তমানে পৌর এলাকায় অবস্থান করছে। তাদের কারণে শহরে বড় ধরণের অঘটন ঘটতে পারে।

তিনি এই সন্ত্রাসি ও ডাকাতদের গ্রেপ্তার করে নির্বাচনের সুষ্টু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে বলেছেন, কক্সবাজার পৌরসভায় নীলনকশার নির্বাচন হলে লাগাতার হরতাল দেয়া হবে।

রোববার (২২ জুলাই) বিকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ার কামাল এমনতর বক্তব্য তুলে ধরেন। ‘মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামালের ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার’ ঘোষণা উপলক্ষে তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পুলিশ প্রতি রাতে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে। কর্মীদের কাছ থেকে ভোটার স্লিপ কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। ডিবির লোকেরা নির্বাচন অফিস থেকে আমাদের পোলিং এজেন্টদের তালিকা নেয়ার চেষ্টা করছে।

পৌর নির্বাচনে আবারও সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে সরওয়ার কামাল বলেন, পুলিশ সরকারের পেটুয়া বাহিনী। তাদের দিয়ে সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সেনাবাহিনীর উপর এখনও জনগণের আস্থা রয়েছে। তাদের মোতায়েন করলে সুষ্টু নির্বাচনের আশা করা যায়।

তিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা জনগণের ভোটে আস্থা না রেখে দিশেহারা হয়ে গেছে।

তিনি তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, র‌্যাব দিয়ে, ডিবি দিয়ে, পুলিশ দিয়ে আমাদের কর্মীদের দৌঁড় করবেন না। স্বাধীন ভাবে মানুষকে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

তিনি অবিলম্বে নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ এবং ভোটের আগেই মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন। তাছাড়াও পুলিশের এহেন পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ বন্ধে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে পৌরবাসীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অবসানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেন দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পৌর পরিষদে থাকা এই জনপ্রতিনিধি।

সংবাদ সম্মেলনে নাতিদীর্ঘ বক্তব্য শেষে ‘নারিকেল গাছ’ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামাল তাঁর ১০ দফা লিখিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন।

ওই নাগরিক কমিটির আহবায়ক ও ‘নারিকেল গাছ’ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট গোলাম কিবরিয়া ও শ্রমিক মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

কী আছে ‘নারিকেল গাছ’ প্রতীকের ইশতেহারে

১০ দফা ইশতিহারের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গতিশীল পৌর প্রশাসন এবং পৌর কার্যালয়কে জনগণের “সেবাঘর” হিসেবে গড়ে তোলা। পর্যটন শহরে পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কক্সবাজার শহরকে বিশ্বের মাঝে আরো বেশি করে পরিচিত করানোর উদ্যোগ গ্রহণ।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। যানজট নিরসনে ৩টি “সাবওয়ে” বা শহরে প্রবেশের বিকল্প সড়ক নির্মাণ। নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পানি শোধনাগার কেন্দ্র স্থাপন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ডাম্পিং স্টেশন’কে পূর্ণাঙ্গ রূপদান।

প্রতিটি ওয়ার্ডে মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের পর্যটনসহ কর্মমূখী বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে বেকারত্ব দূরীকরণ। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করে তাদের জন্য ক্রীড়া ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদারকরণ কর্মসূচী গ্রহণ।

‘হেলথ ট্যুরিজম’কে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গঠনে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন।

এসকল অগ্রাধিকারমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নে মহান আল্লাহর সাহায্য ও পৌরবাসীর সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন তিনি।