মেয়র প্রার্থী সরওয়ারও সেনা মোতায়েন চাইলেন

খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের ‘শয়তানী বুদ্ধিওয়ালা’ ঢুকে পড়েছে কক্সবাজারে!

খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের ‘শয়তানী বুদ্ধিওয়ালা’ ঢুকে পড়েছে কক্সবাজারে!

খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের ‘শয়তানী বুদ্ধিওয়ালা’ ঢুকে পড়েছে কক্সবাজারে!

জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীদের আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় রুজু হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল।

মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামাল ও নাগরিক কমিটির আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, মামলায় যে ঘটনা, স্থান ও সময় উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে তেমন কোন ঘটনাই ঘটেনি।

তাদের মতে, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক পুড়ানো হলে সেখানে পোড়া ইজিবাইকটি থাকতো, বাইকটির ছাই থাকতো, বাইকের মালিক থাকতো, বাইকের লাইসেন্স নাম্বার থাকতো। কিন্তু মামলার সেই ইজিবাইকটি পুড়ানো মামলায় কোন তথ্য-উপাত্তই পাওয়া যায়নি। এমনকি ঘটনাস্থলের পাহারাদাররাও তেমন কোন ঘটনা দেখেন ও শুনেননি।

তারা মনে করেন, শুধুমাত্র আগামি পৌর নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন করার জন্য ‘নীলনকশা’র অংশ হিসেবে পুলিশ সম্পূর্ণ বানোয়াট এই মামলাটি রুজু করেছে।

তাদের মতে, যদি মামলার এজাহারে উল্লেখিত যদি ঘটনাটি ঘটেই থাকে তাহলে তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না, নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামালের ‘নারিকেল গাছ’ প্রতীকের শ্লোগান দিতে দিতে জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাশেদুল হক রাসেল, সহ-সভাপতি ফাহিমুর রহমান, শহর ছাত্রদল সভাপতি এনামুল হক এনাম ইজিবাইকে কিভাবে আগুন দেন!

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, এখনই সতর্ক নাহলে পরিস্থিতি যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায় তাদেরই নিতে হবে।

তারা বলেন, আগামি নির্বাচনে যদি সন্ত্রাস ও ভোট ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটে তাহলে বিএনপি, নাগরিক কমিটি যৌথভাবে মোকাবেলা করবে। প্রয়োজনে জোটগত ভাবে কঠিনতর কর্মসূচি দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামাল ও নাগরিক কমিটির আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া ছাড়াও কক্সবাজার জেলা উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহও বক্তব্য রাখেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহ বলেন, কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে খুলনা-গাজীপুর স্টাইলে নির্বাচন করার জন্য আগেই নীলনকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। খুলনা-গাজীপুরে এভাবেই বানোয়াট মামলা করে বিএনপি মেয়র প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ঘরে ঘরে পুলিশ পাঠিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

তার মতে, খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের অভিজ্ঞতাধারি ‘শয়তানী বুদ্ধিওয়ালা’ টিম কক্সবাজারে ঢুকে পড়েছে। তারাই এই ভূতুড়ে মামলাটি করিয়েছে।

রহিম উল্লাহ মনে করেন, নির্বাচনের আগে এরকম মামলা আরও হতে পারে।

নাগরিক কমিটির আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কক্সবাজারে এখন দাতা সংস্থার তিন হাজারের বেশি বিদেশি কর্মকর্তা অবস্থান করছেন। কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে সহিংসতা-কারচুপি হলে তাদের উপরও এই সহিংসতার প্রভাব পড়তে পারে।

তার মতে, নাগরিক কমিটির নেতা-কর্মীরা বসে নেই। বিদেশি এই প্রতিনিধিদের সাথে ইতোমধ্যেই তারা যোগাযোগ করছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়েও যোগাযোগ করা হয়েছে। যাতে কোন ভাবেই কক্সবাজারে নির্বাচনকে ঘিরে ভোট কারচুপি ও সহিংসতা হতে না পারে। সুষ্টু নির্বাচন যাতে হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘নারিকেল গাছ’ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামাল কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে দিনে দিনে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে দাবি করে বলেন, এই নির্বাচনে অবশ্যই সেনাবাহিনী মোতায়েন ও প্রতিটি ভোট কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

তিনি দাবি জানান, বানোয়াট এই মামলা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। নয়তো জনগণ দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবেন।