একটি পরিবারের ৪ জনেরই করুণ দশা

আমাদের সংসার চলে না। যখন খাবার জোটে তখন খাই, বেশির ভাগ সময় না খেয়ে থাকি। কারণ ঘরে খাবার থাকে না। তাছাড়া সংসারে কাজ করে আয় করার মতো কোনো লোক নেই। এই প্রতিবেদককে এভাবেই বলছিলেন সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের নারী দূর্গা রাণী দাশ।

দূর্গা রাণী তার সঠিক বয়স জানেন না। তবে বয়স যে ষাট পেরিয়েছে এটা নিশ্চিত। এখন সোজা হয়ে চলাফেরাও করতে পারেন না দূর্গা রাণী।

স্বামী নিরাপদ দাশ বয়সের ভারে এখন অচল। মেঝো ছেলে অশোক দাশ (৪৫) ডাকনাম ছটিম ও ছোট ছেলে অসিত দাশ (৪০) ডাকনাম গুলি মানসিক প্রতিবন্ধী। বড় ছেলে অসীম দাশ তার স্ত্রী প্রতিমা দাশ ও বিয়ের যোগ্য তিন মেয়েকে নিয়ে থাকেন পুরনো ভিটেয়। অর্থের অভাবে মেয়েদের বিয়েও দিতে পারছে না তিনি।

এসব জানিয়ে দূর্গা রাণী দাস বলেন, এখন স্বামীকেও কেউ কাজে নিতে চায় না। দুটো ছেলেও প্রতিবন্ধী। তাদেরও কেউ কাজ দেয় না। তাছাড়া থাকার মতো একটা ঘরও নেই। খুপড়ি ঘরের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে এক সঙ্গে থাকি।

ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি আব্দুল গফফার বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। কেউ তাদের শ্রমিক হিসেবেও কাজে নিতে চায় না।

প্রতিবেশী জাহানারা বেগম বলেন, এদের মতো অসহায় মানুষ ছয়ঘরিয়া গ্রামে আর দ্বিতীয়টি নেই। ভিন্ন জাতির মানুষ হলেও তাদেরকে আমাদের দেখতে হয়। যে যা দেয় তাই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তাদের। পলিথিনের একটা খুপড়ি ঘরে ওরা চার জন থাকে। রাতের বেলায় বৃষ্টি হলে পলিথিন জড়িয়ে শুয়ে থাকে। তাদের কষ্টের যেন শেষ নেই।

দূর্গা রাণী দাশের স্বামী বৃদ্ধ নিরাপদ দাশ জানান, ঘর নেই বলে গ্রামের যুবকরা চাঁদা তুলে দোচালা একটা ঘর তুলে দিয়েছে। আরসিসি পিলার, বাঁশের খুঁটি দিয়ে টালির ছাউনি। তবে ঘরের বেড়া হয়নি। শিয়াল কুকুরের হাত থেকে রক্ষা নেই।

সরকারি কোনো সহযোগিতা তাদের ভাগ্যে জোটে না জানিয়ে দূর্গা রাণীর পুত্রবধূ প্রতিমা দাশ বলেন, রোজার ঈদের সময় ১০ কেজি চাল পেয়েছি। শ্বশুরের ভাগ্যে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড জুটলেও একবার মাত্র টাকা পাওয়া গেছে। প্রতিবন্ধী অশোক দাশ ডাকনাম ছটিমের ভাতার ব্যবস্থা হয়েছে বলে শুনেছি তবে কোনো ভাতা আজও পাইনি। নেই ১০ টাকা কেজি চালের কোনো কার্ডও।

ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শরিফুজ্জামান ময়না বলেন, পরিবারটি খুবই দুস্থ। নিরাপদ দাশের একটি বয়স্ক কার্ড করা হয়েছে। দুই প্রতিবন্ধী ছেলের একজনের কার্ড হয়েছে। বাকি ছেলেটাকেও পরবর্তীতে করা হবে। তাছাড়া একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।