স্মার্টকার্ড মুদ্রণ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার শঙ্কা

উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্টকার্ড মুদ্রণ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে জটিলতা দেখা দিলেও তা নিরসন হয়নি। চুক্তি নিয়ে জটিলতার কারণে দিন দিন সমস্যা বেড়েই চলছে। এক মাস আগে চারটি মেশিন বন্ধ হলেও সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ। বর্তমানে ১০টি মেশিনের নয়টিই বন্ধ বলে জানা গেছে। বাকি মেশিনটিতেও সমস্যা দেখা দেয় প্রায়ই। বন্ধ থাকে মুদ্রণ। মাঝে মধ্যে চালু হলেও মেশিনটির সক্ষমতার অনেক কম স্মার্টকার্ড মুদ্রণ হয়। সমস্যা সমাধান না হলে দু-এক দিনের মধ্যে স্মার্টকার্ড মুদ্রণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের পরিচালক আবদুল বাতেন আমাদের সময়কে বলেন, আমি যতটুকু জানি বন্ধ নয়। তবে সর্বশেষ তথ্য জানি না। আমারা জানা মতে, স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং চলছে।
জানা গেছে, ফ্রান্সের অবার্থুর কোম্পানি বিদায়ের পরে চুক্তিতে (তৃতীয় পক্ষ হিসেবে) টাইগার আইটি নামের প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত কর্মী স্মার্টকার্ড মুদ্রণ মেশিন পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে ইসির আইডিইএ প্রকল্পের কয়েকজন টেকনিক্যাল এক্সপার্টও কাজ করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়। পরে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের স্থায়ী করে নেওয়ার আশ্বাসে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। আশ্বাসের বাস্তবায়ন না দেখে গত ৩০ মে থেকে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। এর পর একে একে বন্ধ হতে থাকে স্মার্টকার্ড মুদ্রণ মেশিন। এসব মেশিন সার্ভিসিংয়ের মতো দক্ষ জনবল ইসির নেই।
বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলতে জতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ কার হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
চারটি মেশিন বন্ধ হওয়ার পরে যোগাযোগ করা হলে গত মাসের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং চলছে। মেশিন বন্ধ নেই। আমরা নিজেরাই এ কাজ করছি। কোনো সমস্যা নেই। উপজেলা পর্যায়ে আমরা স্মার্টকার্ড পাঠাচ্ছি।
নির্ধারিত সময়ের (ডিসেম্বর) মধ্যে নয় কোটি স্মার্টকার্ড মুদ্রণ সম্ভব কিনাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নিজেরাই করছি। দেখা যাক কতটুকু পারি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সূত্র জানায়, ১০টি মেশিনে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ স্মার্টকার্ড মুদ্রণ করা হতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে ৪৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত প্রস্তুত হয়েছে মাত্র ৪ কোটি স্মার্টকার্ড, যা লক্ষ্য পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার কথা। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ
উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির সহায়তায় আইডিইএ প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালের জুলাইয়ে নয় কোটি নাগরিককে স্মার্টকার্ড দেওয়ার চুক্তি হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে স্মার্টকার্ড উৎপাদন-বিতরণে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান অবার্থুর টেকনোলজিসের সঙ্গে চুক্তি করে ইসি। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের জুনে। পরে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। নানা অভিযোগের মধ্যে ইসি এ চুক্তি আর নবায়ন করেনি। পরে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় নিজেরাই স্মার্টকার্ড উৎপাদন শুরু করে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ভোটারকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসি। দেশে বর্তমানে ভোটরসংখ্যা ১০ কোটি ৪২ লাখ।