তবে কী ধামাচাপা পড়ছে তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য

আজ শনিবার চট্টগ্রামে আলোচিত ঘটনা তাসফিয়া হত্যা মামলার ডকেট (যাবতীয় নথিপত্র) ডিবিতে যাচ্ছে। মামলা তদন্তভার দেয়া হয়েছে ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক স্বপন সরকারকে। তবে বিগত দুইমাস তদন্ত করেও পুলিশ কোন ধরণের ক্লু উদঘাটন করতে না পারায় মামলাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাসফিয়ার পরিবার এ হত্যাকান্ডে বিচার পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রহমান সিভয়েসকে বলেন, তাসফিয়া হত্যা মামলাটি ধামাচাপা পড়ার সুযোগ নেই। এ মামলায় আসামি ধরা এবং রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশকে দিয়েছি।
সূত্র মতে, মামলাটির কোন কিনারা করতে না পারায় পুলিশ থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (৭ জুলাই) থেকে মামলাটি দেখছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
এরআগে ভিসেরা রির্পোটে তাসফিয়ার শরীরে বিষক্রিয়ার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মৃত্যুরহস্য নির্ণয়ের জন্য সর্বশেষ ভিসেরা রির্পোটের জন্য অপেক্ষা করেছিল পুলিশ। কিন্তু এতে তাসফিয়ার রক্তে কোন ধরণের বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পেটের মধ্যেও মৃত্যু হতে পারে এমন কোন বস্তুর অস্তিত্ব নেই। ধর্ষণের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে নিহত তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন সিভয়েসকে বলেন, এ পর্যন্ত পুলিশ আমাকে তেমন সহযোগিতা করেননি। আমি কোন বিষয়ে জানতে চাইলে আমার ফোনও রিসিভ করতো না সংশ্লিষ্টরা। নানা কারণে আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাবো কিনা সন্দেহ করছি। তবে আমি আর কিছু চাই না। শুধু আমার মেয়ে হত্যার যথাযথ বিচার চাই।
সর্বশেষ ওই হত্যা মামলা দ্বিতীয় আসামি আসিফ মিজানকে গ্রেফতার করা হলেও কার্যত কোন মোটিভ উদ্ধার করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সব সংস্থা একযুগে কাজ করলেও ফলাফল শূণ্য। ফলে এখনো অন্ধকারে রয়েছে সব সংস্থাই। আর রহস্যবৃত রয়েছে তাসফিয়ার মৃত্যু।
প্রসঙ্গত, গত ২ মে বুধবার সকালে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার রাতে তাকে পতেঙ্গা সৈকতের ১৮ নম্বর ঘাটে দেখে স্থানীয়রা। তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিক আদনান মির্জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাসফিয়ার বাবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন। এতে আদনান মির্জা ও আসিফ মিজান গ্রেফতার রয়েছে পুলিশের হাতে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক স্বপন সরকার সিভয়েসকে বলেন, তাসফিয়া হত্যা একটি আলোচিত ঘটনা। এ মামলার রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। তাই মামলাটি পুলিশ থেকে ডিবিতে এসেছে। আমি মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে মামলার ডকেট বুঝে নিয়ে একটু স্টাডি করতে হবে। মামলাটির পূর্বেও আইওর সাথে, বাদীর সাথে কথা বলে আমি এগোতে চাই।
সূত্র জানায়, স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলায় প্রধান আসামি আদনান মির্জা এবং আসিফ মিজান পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরও উল্লেখ যোগ্য ক্লু পাইনি পুলিশ। আদনানকে ইতোমধ্যে গাজিপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিনঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন তথ্য উদঘাটন করতে না পারায় পুনরায় রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। গ্রেফতার অপর আসামি আফিস মিজানকে তিনদিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাকেও কোন ক্লু পায়নি পুলিশ।
এটি একটি আলোচিত ঘটনা হওয়ায় ছায়া তদন্তকারী হিসেবে কাজ করছে র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআই। এসব সংস্থার কাছেও উল্লেখযোগ্য তথ্য আসেনি তাসফিয়ার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে। ফলে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় না হওয়ায় অন্ধকারে ঘুরপাক খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।