ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে

বহুল আলোচিত সেই ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে দায়িত্বরত অবস্থায় অসদাচরণ করার অভিযোগ উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। গত সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত কমিটির সদস্যরা আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারীর কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। পুলিশ সদর দফতরের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) মইনুর রহমান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকালই প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে।’ তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানাতে চাননি তিনি।

সম্প্রতি মরিয়ম আক্তার ইকো নামে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ ওঠে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে। এসময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এনিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। এ অবস্থায় পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) মইনুর রহমান চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন— ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শাহাবুদ্দিন কোরেশী এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের এসপি মিয়া মাসুদ হোসেন। এর আগে অভিযোগ ওঠার পরপরই ডিআইজি মিজানকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ডিআইজি মিজানের কর্মকাণ্ডকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়— তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। একইসঙ্গে ঊর্ধ্বতন একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিষয়টি নৈতিক স্খলনও।

পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, আইজিপি প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!