এক কেন্দ্র থেকেই বহিষ্কার ৯ শিক্ষক ও ১৮ পরীক্ষার্থী

এক কেন্দ্র থেকেই বহিষ্কার ৯ শিক্ষক ও ১৮ পরীক্ষার্থী

এক কেন্দ্র থেকেই বহিষ্কার ৯ শিক্ষক ও ১৮ পরীক্ষার্থী

কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলায় এসএসসির রসায়ন বিজ্ঞান পরীক্ষার সেটকোড জালিয়াতির অভিযোগে নয় শিক্ষক ও ১৮ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পরীক্ষা চলাকালে মীরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জামাল আহমেদ তাদের বহিষ্কার করেন।

নৈর্ব্যাক্তিকের উত্তরপত্রে সেটকোড জালিয়াতির অভিযোগে ১০৯ নম্বর কক্ষ থেকে তিন পরীক্ষার্থী, ১১০ নম্বর কক্ষ থেকে চার ও ১১১ নস্বর কক্ষ থেকে ১১ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া ওই তিনটি কক্ষের কক্ষ পরিদর্কের দায়িত্বে থাকা নয় শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত শিক্ষকরা হলেন-ছতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহি উদ্দিন, শফি উদ্দিন, বাবুল হোসেন, কুরিপোল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীম আলী, বলিদাপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম, নূর আমিন, বরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন, ফুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইয়ার আলী ও মেজবাউল হক।

বহিষ্কারের পর দোতলা থেকে লাফ!
ঢাকা: সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসির বহুনির্বাচনী পরীক্ষা চলার সময় এক ছাত্রীকে নকল করার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রী কেন্দ্রের ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এখন সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রীকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কেন্দ্রসচিব এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিটার গোমেজের ভাষ্য, আজ পদার্থবিদ্যা বিষয়ের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা চলার সময় সাভারের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আগে থেকে হাতের মধ্যে লিখে আনা উত্তর দেখে দেখে পরীক্ষা দিচ্ছিল। বিষয়টি দেখে ফেলেন কেন্দ্রের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাভার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেজবা উদ্দীন। তিনি ওই ছাত্রীর হাতে লিখে আনা উত্তরের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের উত্তরের মিল পেয়ে তাকে বহিষ্কার করেন। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রী জানায়, কুষ্টিয়ায় তার এক বন্ধুর কাছ থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে এই উত্তরপত্র সংগ্রহ করেছে সে। এটি বলে সে হঠাৎ করেই কেন্দ্রের দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। পরে আহত অবস্থায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ওখানেই সে এখন চিকিৎসাধীন। তার কোমর ও বাঁ পায়ে আঘাত লেগেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেজবা উদ্দীন বলেন, ‘আমি প্রথমে মেয়েটিকে নকল করতে দেখি। দেখে অন্য শিক্ষকদেরও ডাকি। দেখা যায়, তার হাতে লেখা উত্তরপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরের হুবহু মিল রয়েছে। মিল পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ওই ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়।’

বাংলাদেশে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র’ আটক, কিন্তু কে তাদেরকে প্রশ্ন দেয় – জানে না পুলিশ

বাংলাদেশে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের মধ্যে পুলিশ এখন দাবি করছে, তারা এমন একটি চক্রকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে যারা প্রশ্ন ফাঁস করে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু কে তাদেরকে প্রশ্ন দেয় এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ।

পুলিশের দাবি, এ থেকে কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয় এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে কিভাবে এগুলো পৌঁছায় – সে সম্পর্কে একটা ধারণা তারা পেয়েছে। খবর-বিবিসি

তবে এ চক্রের কাছে কারা প্রশ্ন সরবরাহ করে – সেটি এখনো অজানাই রয়ে গেছে।

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আজ পরীক্ষা শুরুর আগে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিয়েছিলো মোবাইল অপারেটররা।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষার সময়ে নিয়মিতই গণমাধ্যমে আসছে প্রশ্ন ফাঁসের খবর।

পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন আজ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, তারা তিন ভাইয়ের নেতৃত্বে কাজ করে এমন ১৪ জনের একটি চক্রকে আটক করেছে – যারা ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করছিলো।

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে কিছু সংখ্যক ছেলে ঘোষণা দিয়েছিলো যে তারা প্রশ্ন ফাঁস করবেই। তাদের আমরা ধরেছি। আহসানউল্লাহ, আমানউল্লাহ ও বরকতউল্লাহ। এই উল্লাহ বাহিনী, এরা তিন ভাই। এর মধ্যে একজন মেডিকেলের শিক্ষার্থী’।

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসহ অনেককেই আটক করা হয়েছে নানা সময়। ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কোচিং সেন্টারগুলোর বিষয়েও।

নানামুখী তদন্ত চালিয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। কিন্তু তারপরেও কিভাবে এ ধরনের চক্রগুলো প্রশ্ন ফাঁস করে। পরীক্ষার্থীদের কাছে সেগুলো কিভাবে পৌঁছায়।

এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমূতে তারা কিছু গ্রুপ ওপেন করে ।প্রতিটি গ্রুপে অনেক শিকক্ষার্থীকে সদস্য করে এবং পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ তৈরি করে।’

‘আমরা জানতে পেরেছি, আর প্রশ্নপত্র পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা কক্ষে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।’

তবে এই সময়ের মধ্যে কারা প্রশ্ন নিয়ে এ ধরনের চক্রগুলোর কাছে পাঠিয়ে দেয় সেটির কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই পুলিশের কাছে।

আব্দুল বাতেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন পৌঁছানো পর্যন্ত যে কোন সময় এটা হতে পারে। ওরা যে প্রশ্ন কোথায় পায় ওদের তো শত শত চেইন আছে। এগুলো বের করতে ছয়মাস সময় লেগে যাবে’।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!