চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ি-কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে ৫০ কি.মি.

আলোর মুখ দেখছে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম বিকল্প সড়ক

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৮ সদস্যের পরামর্শক দলের পরিদর্শন

চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ির সাথে কক্সবাজারের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার কমিয়ে আনতে ‘কক্সবাজার-চট্টগ্রাম বিকল্প সড়ক’ (আনোয়ারা-বাঁশখালী-পেকুয়া হয়ে ঈদমনি-চৌফলদন্ডী’) প্রতিষ্ঠার তোড়জোড় নতুন করে শুরু করেছে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়। চকরিয়ার ঈদমনি থেকে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন করেই এই বিকল্প সড়কটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিদ্যমান কক্সবাজার-চট্টগ্রাম আরাকান মহাসড়কের উপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক সংস্থার কর্মকর্তারা গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে কক্সবাজারে এসে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্পটি ‘ফাইলবন্দী’ থাকার পর গত ১৮ জানুয়ারী দ্বিতীয় বারের মতো পরামর্শক সংস্থার কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করে মন্ত্রণালয়। এর আগের দিন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরই প্রেক্ষিতে পরামর্শক সংস্থার কাজের মেয়াদ আরো ৪ মাস বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি পৃথক প্রস্তাবনা জমা দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নিযুক্ত পরামর্শক সংস্থা ডিপিএম লিমিটেডের কর্মকর্তারা গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে কক্সবাজারে এসে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শাহজাহান খাঁনের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের পরামর্শক দলের সদস্যরা ৫ ফেব্রুয়ারি চকরিয়ার ঈদমনি-বদরখালীসহ সড়কের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পরদিন গত মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী অংশ পরিদর্শন করেন বলে জানান কক্সবাজার সড়ক জনপদ ও বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়–য়া।
তিনি জানান, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নিযুক্ত পরামর্শক সংস্থা ৪ মাসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট পেশ করার পর সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এ সড়কটির প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব এমএ আজিজ মাহবুব বলেন, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী এ কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালে বিগত ২০১০ সালের ৭ জুন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে একটি আধা সরকারী পত্র প্রেরণ করেছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু উদ্বোধনের দিন এ সেতু প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ২১০ কোটি টাকায় এ মহাসড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত সড়কের বিভিন্ন অংশের উন্নয়ন হওয়ায় বর্তমানে চকরিয়ার ঈদমনি হতে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন করেই এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, আখতারুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যুর পর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কক্সবাজার-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এ প্রকল্পটিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবায়নের পথে।
এমএ আজিজ মাহবুব বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক বেশি অবদান রেখেছেন এবং যাচ্ছেন। তাঁরই হাত ধরে স্বপ্নের আঞ্চলিক মহাসড়কটি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে। কক্সবাজার তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের এই অবদান আজীবন স্মরণ করবেন বলে তিনি মনে করেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!