লন্ডনভিত্তিক তারেকের বিএনপি কেমন চলবে?

দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে খালেদা জিয়া মামলায় রায়ের আগেই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার প্রকিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। এমনকি দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই চলবে বিএনপি। তার নির্দেশনায় বাস্তবায়ন হবে ঢাকাতে। বিএনপিসহ লন্ডনজুড়েই এখন একটিই প্রশ্ন এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করছে, কেমন চলছে তারেক রহমানের বিএনপি?

লন্ডনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিগত ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে তারেক রহমান প্রকাশ্যে আসছেন। ইউকে বিএনপি’র কমিটি গঠন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি যোগ দিয়েছিলেন তখন। প্রথমবারের মত তার তত্ত্বাবধানে ইউকে বিএনপি’র কমিটি গঠিত হয় ২০১৩ সালে। এই কমিটিতে সভাপতি হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হয় শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস নামে একজনকে। যার শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাইমারি স্কুলের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ। সেক্রেটারি হিসাবে মনোয়ন দেওয়া হয় কয়সর আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে। যার শিক্ষাগত যোগ্যতা সেকেন্ডারি স্কুলের গন্ডি পার হয়নি। যুক্তরাজ্যের মত জায়গায় তার প্রথম আবিষ্কার হল এই দুই ব্যক্তি। তার এই আবিষ্কার দেখে লন্ডনে অনেকেই তখান হতবাক হয়েছিলেন। বিষ্ময় প্রকাশ করেছিলেন অনেকে।

এ কমিটির মেয়াদ শেষে দ্বিতীয় কমিটি গঠিত হয় তারই সরাসরি তত্ত্বাবধানে। সেখানে সভাপতি হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয় এম এ মালেক নামে এক ব্যক্তিকে। যার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক অভিযোগের অন্ত নেই। নানা ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে আর্থিক কেলেঙ্কারি। সব জায়গায় রয়েছে তার বিচরণ। তারও শিক্ষাগত যোগ্যতা সেকেন্ডারি স্কুলের গন্ডিতের সীমাবদ্ধ। সেক্রেটারি হিসাবে রাখা হয় কয়সর এম আহমদকে। তাদের অনৈতিক কাজের বিষয়েও তিনি জানেন। কেউ এবিষয়ে প্রশ্ন করলে সোজা সাপটা উত্তর দেওয়া হয়। বলা হয়, তারা তো মসজিদে ইমামতি করতে যাবেনা না। সুতরাং সমস্যা কোথায় দলের নেতৃত্ব দিতে।

এবার কমিটি গঠন নিয়ে গত মাসে যা গঠেছে সেটা সবারই জানা। মালেক এবং কয়সরকে আবারো সভাপতি সেক্রেটারি রাখার জন্য তার তত্ত্বাবধানেই কাউন্সিল আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই কাউন্সিলের দিন তারিখ ঘোষণা হয়। কাউন্সিলের আগের দিনও দলের ইউকে কমিটির সদস্যরাই জানেন না কোথায় সেটা অনুষ্ঠিত হবে। অতি গোপনে রাখা হয় কাউন্সিলের ভ্যানু। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটির অন্যান্য সদস্যরা অফিস দখলে নেয় আগের রাতে। তখন সাথে সাথে কাউন্সিল স্থগিত করতে বাধ্য হয়। কিন্তু পরবর্তিতে আবারো এমন জঠিল পরিস্থিতি তৈরি করা হয় যাতে অন্য কেউ কাউন্সিলে অংশ নিতে না পারেন। সংক্ষুব্ধ সদস্যদের বাইরে রেখেই ১৫দিন পর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই হচ্ছে সরাসরি তত্ত্বাবধানে তারেক রহমানের দল পরিচালনার নমুনা। এ থেকেই অনুমেয় তারেক রহমান কি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আগামীতে দলের নেতৃত্ব দেবেন।

এছাড়া যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের সর্বোচ্চ আবিস্কার হচ্ছে ভবঘুরে এক ব্যক্তিকে। যার কোন চাকুরি-বাকুরি কিছুই নেই। স্থানীয় লেবার পার্টির ওয়ার্ড কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন। সেখান থেকেও বহিস্কার হয়েছেন অনৈতিক কাজে জড়ানোর অভিযোগে। সেই ভবঘুরে হুমায়ূন হলেন তাঁর বিশেষ উপদেষ্টা। দলের বিগত কাউন্সিলে প্রথমে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ। কিন্তু সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে করা হয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক। বিদ্যুৎ গতিতে পদোন্নতি। তাঁর প্রভাবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও কাবু থাকতে হয়। নবাগত এসব সদস্যদের প্রভাবেই চলবে এখন বিএনপি। তারেক রহমানও প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্কুলের গন্ডি পর্যন্ত শিক্ষিত বেকার এবং অর্ধবেকার ও নানা অনৈতিক কাজের জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রভাবের বাইরে নন। তাদের প্রভাবেই তিনিও পরিচালিত হন। তারাই হলেন তাঁর মূল চালিকা শক্তি। সুতরাং তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী বিএনপি’র লক্ষণ গত ৫ বছরে যুক্তরাজ্যে ফুটে উঠেছে।

এখন বিএনপি রাজনীতির সর্বোচ্চ মহলে একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কেমন চলবে তারেক রহমানের লন্ডনভিত্তিক বিএনপি? পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তাকে একটু সময় দেয়া হোক। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তিনি কিভাবে দল পরিচালনা করেন সেটি দেখেই মন্তব্য করতে চান তারা।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!