বিরোধী ঐক্যের দায়িত্ব আমারই: সোনিয়া

রাহুল যে তাঁরও ‘বস’ তা জানানোর পাশাপাশি সোনিয়া গান্ধী বলে দিলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিরোধী দলকে জোটবদ্ধ করার গুরুদায়িত্ব আমারই’। গতকাল বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সংসদীয় দলের বৈঠকে সোনিয়া এই কথা জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে সব সমভাবাপন্ন ধর্মনিরপেক্ষ দলকে একজোট করার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন।
কংগ্রেস নেত্রী বলেন, বিরোধীদের একজোট করার এই কাজে তাঁর সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ছাড়াও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা থাকবেন। তিনি বলেন, তাঁদের লক্ষ্য একটাই। বিজেপিকে সরিয়ে ভারতের গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ফিরিয়ে আনা। এমন একটা সমাজ তৈরি করা, যেখানে সবাই সমান। যেখানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সহনশীল ভারত ফের গড়ে উঠবে।’
গত ডিসেম্বরে রাহুল কংগ্রেস সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবার সোনিয়া সংসদীয় দলের বৈঠকে ভাষণ দিলেন। সোনিয়া এখনো সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন। ইউপিএ প্রধানের দায়িত্বেও তিনি। বৃহস্পতিবার দলীয় সাংসদদের যে বৈঠক ডাকা হয়, সেখানে তিনি দলের রূপরেখা ঠিক করে দেন।
মোদির আমলে দেশের হাল কী হয়েছে, সোনিয়া তারও ব্যাখ্যা দেন। বলেন, এই চার বছরে সংসদ, বিচারব্যবস্থা, প্রচারমাধ্যম, নাগরিক সমাজ কাউকেই বিজেপি আঘাত করতে ছাড়েনি। দুর্বল করতে যা যা করা দরকার, সব করে চলেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে সরকারি তদন্ত সংস্থাগুলোকে। চারদিকে ভয়ের ও আশঙ্কার একটা আবহ তৈরি করে দিয়েছে। উদার, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। শত ছর ধরে যে বহুত্ববাদী ভারত পৃথিবীতে তার পরিচয় রেখে এসেছে, সেই চরিত্র নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।

দলীয় সাংসদদের সোনিয়া সজাগও করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক মেরুকরণ ঘটানোর মধ্য দিয়ে বিজেপি কর্ণাটকের ভোটারদের প্রভাবিত করার ছক কষছে। একই জিনিস গুজরাট ও উত্তর প্রদেশে দেখা গেছে। কর্ণাটকেও তা করার চেষ্টা চলছে। এই প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। সোনিয়া বলেন, গুজরাটের ভোট ও রাজস্থানের উপনির্বাচন বুঝিয়ে দিয়েছে হাওয়া ঘুরছে। কর্ণাটকেও ভোট আসছে। ওই রাজ্য থেকে সর্বভারতীয় স্তরে কংগ্রেসের পুনর্জন্ম ঘোষিত হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!