মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ দূর্নীতি মামলা

কক্সবাজারে এসে গ্রেপ্তার হলেন সাবেক ডিসি রুহুল আমিন

কক্সবাজারে এসে গ্রেপ্তার হলেন সাবেক ডিসি রুহুল আমিন

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪৬ কোটি টাকার দূর্নীতি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রুহুল আমিন। সোমবার (২২ মে) আদালতে আত্মসমর্পন করলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সাবেক এই জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোমবার বেলা ১২টায় আত্মসমর্পন করেন। আদালতের বিচারক তৌফিক আজিজ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ইতিপূর্বে ২১ মে রোববার উচ্চ আদালতের কাছ থেকে নেয়া ডিসি রুহুল আমিনের আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হয়।

২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর সাবেক ভূমি হুকুম কর্মকর্তা এম এম মাহমুদুর রহমান কক্সবাজার সদর মামলায় এই দূর্নীতি মামলাটি করেছিলেন। ওই মামলায় ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল মামলার চার্জশীট দাখিল করেন দূর্নীতি দমন কমিশনের (দূদক) চট্টগ্রামস্থ উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমদ।

এই মামলাটিতে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাবেক উচ্চমান সহকারি আবুল কাশেম মজুমদার, এডভোকেট নূর মোহাম্মদ সিকদার, কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জাফর আলম, সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। সর্বশেষ সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন গ্রেপ্তার হলেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবুল কাশেম মজুমদার ও এডভোকেট নূর মোহাম্মদ সিকদার আদালতের জামিনে আছেন। অন্যরা এখনও কারাগারে রয়েছেন।

কক্সবাজার থানায় মামলাটি দায়েরের পর দূর্নীতি দমন কমিশন মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। আর আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন দূদকের কৌশলি এডভোকেট মোঃ আব্দুর রহিম ও এডভোকেট মোঃ সিরাজ উল্লাহ। আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট নুর সুলতানাসহ কয়েকজন আইনজীবী।

এডভোকেট আবদুর রহিম সাংবাদিকদের জানান, মামলাটির তদন্তে বেরিয়ে আসে, আসামিরা পরস্পর যোগসজসে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অপরকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত করেছেন।

তার মতে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত ও সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জমিসহ ফিল্ড বুকে চিংড়ি ঘেরের কোন বিবরণ না থাকা সত্বেও এই চক্রটি আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে জেনেশুনে পারস্পরিক যোগসাজসে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভূঁয়া ও অরেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তিনামা ও মাষ্টাররুলের ফটোকপি দাখিল করে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে এক হাজার ৩৩৫ একর জমির চিংড়ি ফসলের ক্ষতিপূরণের প্রাক্কলন তৈরি ও অনুমোদনের মাধ্যমে প্রত্যাশি সংস্থা, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেডের নিকট হতে অন্যান্য ক্ষতিপূরণের সাথে চিংড়িখেতের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ টাকার চেক সংশ্লিষ্ট অধিগ্রহণের হিসাবে জমা করেন। পরবর্তীতে ২০টি এল.এ চেক মূলে প্রায় ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

তিনি আরও জানান, সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন গংয়ের দূর্নীতি এখানেই শেষ নয়। এই চক্রটি ৫টি চেক প্রস্তুত ও প্রদান করে অবশিষ্ট প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রচেষ্টাও চালিয়ে গেছেন। তাদের এই কার্যক্রম গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এদিকে আদালত সূত্র জানিয়েছেন, সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনকে আদালতের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার পর কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।