বনানীর ধর্ষকদের জন্য কক্সবাজারের দুই মসজিদে দোয়া মোনাজাত, ফেসবুকজুড়ে সমালোচনার ঝড়

নাটের গুরু নাঈম আশরাফ

নাটের গুরু নাঈম আশরাফ

রাজধানীর বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ ঘটনায় জড়িতদের ‘মুক্তি ও আপন জুয়েলার্স পরিবারের সদস্যদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষার’ জন্য কক্সবাজারের দু’টি মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করার অভিযোগ উঠেছে ইমামদের বিরুদ্ধে। এমনকি ধর্ষকদের রক্ষার জন্য মসজিদে বিশেষ কোরান খতমেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের বইল্লাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ ও বদর মোকাম জামে মসজিদের জুম্মার নামাজে ইমামদ্বয় এমন দোয়া মোনাজাত করেন।

মোনাজাতের পরপরই মসজিদের মুসল্লিরা তীব্র সমালোচনা করতে শুরু করেন। তবে মুসল্লিরা এই দোয়া মোনাজাতের ব্যাখ্যা চাইলে ইমামদ্বয় কিছু না বলে দ্রুত মসজিদ থেকে সটকে পড়েন বলে মুসল্লিরা জানিয়েছেন।

এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম এসেছি। আমিও শুনেছি বিষয়টি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি মসজিদের খতিব মওলানা রিদওয়ানুল হককে আপন জুয়েলার্সের একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মোনাজাতের সময় আকস্মিক একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে মোনাজাত করিয়ে নেন। মোনাজাতের পর মসজিদের খতিব অবশ্য বিষয়টির ভুল স্বীকার করেন এবং দ্রুত মসজিদ থেকে সরে যান।’

অপরদিকে শহরের বদর মোকাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদের ইমাম মওলানা ইউনুছ ফরাজীকে আপন জুয়েলার্সের জন্য দোয়া করতে বলেন। ইমাম সহজ-সরল মনে তাই করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসা লোকজন বদর মোকাম মসজিদের ইমামকে নগদ টাকা দিয়ে কোরান খতমেরও আয়োজন করেন। বৃহস্পতিবার আছরের নামাজের আগে খতমও পড়ানো হয় মসজিদটিতে।’