মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন প্রিন্স মূসা

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন প্রিন্স মূসা

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন প্রিন্স মূসা

আলোচিত ব্যবসায়ী মূসা বিন শমশেরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ পায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। এর পরই নিজেকে মুক্তিযুদ্ধা পরিচয় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় ও এর আগে পরের বিষয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই ধন কুবের।

তার ফেসবুক থেকে নেয়া সেই স্ট্যাটাসটি নিম্নে হুবহু প্রকাশ করা হলো:

‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমার ভূমিকা

বন্ধুরা, মনে রেখো জীবন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। সবার জন্যই ‘তা’ প্রতিনিয়ত দেয় নতুন নতুন চমৎকার শিক্ষা ও যোগায় প্রকৃত মানুষ হওয়ার উচ্চাভিলাষী প্রেরণা। আর এই দীর্ঘ জীবনে থাকে নানান পুঞ্জিভূত ঘটনা ও গল্প আর এই প্রতিটা গল্পের পিছনে থাকে একটি ইতিহাস আর কখনো কখনো সেই ইতিহাস হয় মহিমান্বিত। তাই সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত কিছু সত্য তথ্য নতুন প্রজন্ম ও সমগ্র বাংলার জনগনকে দেয়া একান্তই প্রয়োজন। যাতে দূরিভূত হবে সব জঘন্য ও বিভৎস মিথ্যাবাদিতা আর প্রতিষ্ঠিত হবে সর্বজন বিদিত অনন্ত সত্য।

আমার জন্ম ফরিদপুরে ১৯৪৫ সালের ১৫ অক্টোবর। বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৫৪ সালে। তবে পরিচয়ের শুরুতেই কিছু তর্ক বিতর্কের মধ্যে দিয়েই শুরু হয় আমাদের পরিচয়ের পালা। বঙ্গবন্ধু আমাকে দেখেই আমার স্বর্গীয় পিতাকে বলেছিলেন আমি একটি বিস্ময়কর বালক। যদিও ৩ বছর বয়স থেকেই আমাকে এই পরিচয়ে সবাই চিনতো। সেই ছোট বেলা থেকেই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য রয়েছে আমার অশেষ ত্যাগ। সেই বয়স থেকেই আমি জনগণের জন্য লড়েছি এবং সংগ্রাম করেছি এবং আদায় করেছি আমার দাবী। ১৯৫৮ সাল থেকে বাদ যায়নি কোন শাসক, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ুব খাঁন, গভর্ণর আজম খাঁন ও গভর্ণর মোনায়েম খাঁনকেও আমি ছাড়িনি। বিস্তারিত আপনারা জানতে পারবেন আমার জীবনি ভিত্তিক কিছু বই বা ম্যাগাজিন অথবা ওয়েব সাইট থেকে বিশেষ করে ভারতের বিখ্যাত লেখক শ্রী-প্রবীর নিয়োগীর লেখা “প্রিন্স মূসা-রহস্যের এক অমর জীবন” প্রবন্ধ থেকে। সেটা পড়লে আপনারা সহজে বুঝতে পারবেন কি ভাবে আমি গভর্ণর মোনায়েম খাঁনকে তারই লাট ভবনে রাষ্ট্রীয় ভোজ সভায় জমজমাট সন্ধায়, বাংলার সমস্ত ছাত্র সমাজ ও অবিভাবকদের বিরুদ্ধে সাংঘাতিক অপমান জনক ও কুরুচীপূর্ণ মন্তব্যের বিরুদ্ধে আমি কি ভাবে সেই গভর্ণর বাহাদুরকে সমস্ত মেহমানদের সামনে সমগ্র বাঙ্গালী জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিলাম। এখানে বলে রাখা ভালো যে, আমি সমগ্র পাকিস্তানের জুনিয়ার গ্রুপের ইংরেজী বিতার্কিক হিসাবে পুরস্কার প্রাপ্ত সর্ব কনিষ্ঠ আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে ঐ ভোজ সভায় উপস্থিত ছিলাম। আমি সামনের কাতার থেকে লাফিয়ে উঠে ভয়ঙ্কর গর্জন করে তীব্র প্রতিবাদ করে, গোটা লাট ভবনকে প্রকম্পিত করে, দরবার হলকে তছনছ করে ভয়ংকর এক অবস্থার সৃষ্টির মধ্যে দিয়া কিভাবে আমি সেই লাট ভবন থেকে সর্ব প্রথম বাংলা ও বাঙ্গালীর স্বাধীকারের বীজ চিরকালের জন্য বপন করে ছিলাম। আপনারা আরো পাবেন ৬০এর দশকের আমার অপ্রতিরোদ্ধ আপোষহীন বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সমৃদ্ধ হয়েছিল ফরিদপুরের আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতি ও বেগবান করেছিল স্বাধিকার আন্দোলনের ধারা এবং ফরিদপুর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাটি হিসাবে। ছাত্রলীগের ফরিদপুরের দূর্দান্ত প্রতাপশালী ছাত্রনেতা ও বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন হিসাবে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পর্যন্ত না জানা অনেক কথা ও ১৯৭২ সালের বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য।

বন্ধুরা, একই সঙ্গে আমি আপনাদেরকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কালীন আমার ভূমিকা নিয়ে অতীতে অনেক জায়গায় মুদ্রিত বর্ণমালায় প্রকাশিত হয়েছে সেটাও আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। তাহলে আপনারা বুঝতে পারবেন কে বা কাহারা আমার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে আমার ভূমিকা নিয়ে নানান মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে কুৎসা রটাচ্ছে। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাহলে এই সব নিন্দুকেরা ক্ষমা পেত না। কারণ এই সমস্ত অপরাধ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নীতিতে অমার্জনীয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন প্রিন্স মূসা

বন্ধুরা, নিন্মে আপনাদের উদ্দেশ্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো….

৭১ এ প্রিন্স মূসা বিন শমশের এর ভূমিকা প্রসঙ্গে

“৭১ সালের ২৫ মার্চ সমস্ত দিন এবং রাতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা বঙ্গবন্ধুর বাসায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে অবস্থান করছিলাম। সেখানে দেশের সকল জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনার জন্য। কয়েক জন কেন্দ্রীয় নেতাঁর সামনেই বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন ‘রাত হয়েছে তোঁরা যার যার জেলায় চলে যা।’ বঙ্গবন্ধু জিজ্ঞেস করলেন তোঁর কাছে টাকা আছে নাকি, বলেই পকেটে হাত দিলেন। আমি বললাম মুজিব ভাই টাকা আছে লাগবে না। তৎক্ষনাত তিনি বললেন চাচাজানকে আমার সালাম বলবি, দোয়া করতে বলবি আর বলবি যে উনার পরামর্শের বাইরে যাব না। উল্লেখ্য চাচাজান হলেন আমার স্বর্গীয় পিতা যিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অন্যতম শ্রদ্ধাভাজন মুরুব্বী, আধ্যাত্মিক গুরুর চেয়েও বড় (মুজিব ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় আমি তখন বালক ১৯৫৪ সালে আমার নিজ বাড়িতে তিনি প্রথম মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়ে ফরিদপুরে গিয়েছিলেন শুধু আমার স্বর্গীয় পিতাকে সালাম করতে। ঠিক তখন থেকেই প্রথম সাক্ষাতেই অন্যান্য উপস্থিত মেহমানদের সামনেই মুজিব ভাই আমাকে চৎড়ফরমু হিসাবে আবিস্কার করেন)। এর পরই তিনি দ্রুত ঢাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দিলেন আমাকে সহ সকল নেতৃবৃন্দকে আর আমাকে বললেন রাজ্জাক (মরহুম আব্দুর রাজ্জাক) তোদের সব ভবিষ্যৎ কর্মসূচি জানিয়ে দেব। হঠাৎই পিছন থেকে আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে আমাকে একটু দূরে নিয়ে গেলেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় স্বর্গীয় তাজউদ্দিন আহমেদ। তাজউদ্দিন ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় সম্ভবত ১৯৬২ সালে। যিনি আমাকে সবসময় চৎড়ফরমু বলেই ডাকতেন, তিনি কোন ভূমিকা ছাড়াই সরাসরি আমাকে বললেন মূসা মুজিব ভাই আমার কোনো কথাই শুনছেন না। জানি উনি তোমার ও আল্লামার (সিলেটের মোস্তফা আল্লামা) কথা কিছুটা শুনেন। তাই তুমি উনাকে একটু বুঝিয়ে বল, তুমিতো সবই জান অনিবার্য পরিণতির কথা। উনার চোখে মুখে ছিল ভংয়কর হতাশার ছাপ। আমি জানি উনি আমাকে দিয়ে কী বলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আমি আমার প্রিয় তাজউদ্দিন ভাইয়ের ন্যায্য দাবির কথা মুজিব ভাইকে বলতে পারিনি। সেই বেদনা আজও আমি বয়ে বেড়াচ্ছি। হয়ত এই বেদনা বইতে হবে অনন্তকাল। আমরা দ্রুত ৩২ নম্বর রোড ত্যাগ করে ঢাকা কলেজের উল্টো দিকে চিটাগাং রেষ্টুরেন্টে কোনো রকম রাতের খাবার খেয়ে সোজা সদর ঘাট চলে যাই। নদী পার হওয়ার আগেই মাঝ নদীতে থাকা অবস্থায় বিকট শব্দ শুনতে পাই। বুঝতে পারি এই গর্জে উঠল পাক-হানাদারদের কামানের তা-ব লীলা। তখনই বুঝতে পারছিলাম মুজিব ভাইয়ের ঢাকা ত্যাগের নির্দেশনা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিল।

অনেক কষ্টে পায়ে হেঁটে তিনদিন পর আমরা ফরিদপুরে পৌঁছলাম। বহু চেষ্টা করেও রাজ্জাক ভাইয়ের সাথে আর যোগযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এরই মধ্যে হঠাৎ আমি টাইফয়েড-এ আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ি। উল্লেখ্য যে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের ফরিদপুরের প্রতিষ্ঠিত একজন ছাত্রনেতা হিসেবে আমি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করি এবং সমসাময়িক প্রায় প্রতিটি ছাত্র তথা গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দান করি। গগণচুম্বি জনপ্রিয়তা, নেতৃত্বে আপসহীনতা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও লৌহ কঠিন ব্যক্তিত্বের সুবাদে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে প্রিয় ও বিশ্বস্ত ছাত্রনেতা হিসেবে ঘনিষ্ঠতা ও আশিস লাভ করি।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর একটি সশস্ত্র দল ১৯৭১ সালের ২১ শে এপ্রিল গোয়ালন্দ হয়ে ফরিদপুর শহর দখল করে অবস্থান নেয়। পরদিন ২২ শে এপ্রিল আমি শহরের বাইরে একটি রাস্তা অতিক্রম করার সময় পাকিস্তানী সেনারা আমাকে আটক করে এবং কোনো প্রকার জিজ্ঞাসাবাদ না করেই আমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় খোলা জিপে বহন করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় তাদের একটি ক্যাম্পে নিয়ে আটক করে রাখে। ছাত্রলীগের দুর্দান্ত প্রতাপশালী নেতা হিসাবে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে সামরিক বাহিনীর কয়েদখানায় (জল্লাদখানা) বন্দী করে এবং উক্ত কয়েদখানায় দীর্ঘ ৮ মাস আটক করে রাখে। এই সময় আমাকে প্রচন্ডভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। ক্ষত বিক্ষত শরীরে প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় আমি ১৯৭১ এর ডিসেম্বরের ৯ তারিখে সামরিক কয়েদখানা থেকে মুক্তি লাভ করি এবং তৎক্ষণাৎ ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর সাথে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ করি কিন্তু প্রথম সাক্ষাতে বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন এখন কী করবি? আমি উনাকে জানালাম ব্যবসা শুরু করে দিয়েছি। আমি ১৯৭২ সালেই দেশে ব্যবসা শুরু করি। শুরু থেকেই আমার ব্যবসায় সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের মতো উত্থান ঘটে এবং ১৯৭৩ সালেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে আমার ব্যবসায় প্রসার লাভ করে। তাজউদ্দিন ভাই তখন অর্থমন্ত্রী। তাঁর সাথে আমার যোগাযোগ ছিল। তাঁকে আমি আমার দেশ ও জাতির জন্য এক যাদুকরী পরিকল্পনার কথা শেয়ার করতাম। একদিন তিনি নিজেই আমাকে বিদেশে ফোন করে পরামর্শ দিলেন। বললেন যে- মূসা কিছু ডকুমেন্ট্রি এভিডেন্স নিয়ে দ্রুত তুমি বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ কর, সময় নষ্ট করো না। ঠিক তখনই বিদেশ থেকে বুঝতে পারলাম আমার স্বপ্নের পরিকল্পনাই হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ গড়ে তোলার একমাত্র পাথেয়। স্বভাবত স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুর বছরগুলো কঠিন সব সমস্যায় জর্জরিত ছিল। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত – ভুখা-নাঙ্গা গণমানুষের সীমাহীন দুঃখ কষ্ট লাঘবে ব্যক্তিগতভাবে আমি সরকারকে সাহায্য করতে তীব্র তাগিদ বোধ করি। ফলে আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এক জরুরি সাক্ষাতে মিলিত হই এবং উনাকে আমার স্বপ্নের গবমধ চৎড়লবপঃ অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা করি এবং ফিলিপিন্স, ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের জনশক্তি রপ্তানির নীতিমালা ও তাঁদের রেমিটেন্সের স্বর্ণ দুয়ার খুলে যাওয়ায় দ্রুত সেই সব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলে যাওয়ার কথা বলি। তাজউদ্দিন ভাইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী সেই উন্নয়ন ঘটার প্রমাণের দলিলাদি উপস্থাপন করি। সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু আমার বক্তব্য শুনে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন, মনে হলো তিনি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন। তিনি আমার ওপরে বিশ্বাস করে ঐ মুহূর্ত থেকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন। বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, “মূসা আমাদের রপ্তানির তো কিছুই নেই, পাট ছিল তাও শেষ।” নিজস্ব আশাবাদ ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত জনশক্তি রপ্তানিই হতে পারে দেশের অর্থনীতির ভয়াবহ দুর্যোগ অবসানের রক্ষাকবচ। আমি নিশ্চিত, তুই হবি একমাত্র আমাদের কাক্সিক্ষত নতুন সোনার বাংলা গড়ার শ্রেষ্ঠ রূপকার ও জনশক্তি রপ্তানির প্রবাদ পুরুষ।

বন্ধুরা, যেহেতু আমি ১৯৭১ সালে ২২ শে এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলাম এবং ৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পাক বাহিনীর টর্চার সেলে বন্দী ছিলাম। বন্দী অবস্থায় তাদের পৈচাশিক, নজিরবিহীন বর্বরোচিত নৃশংসতা ও জঘন্যতম নির্যাতনের শিকার হয়ে অর্ধমৃত অবস্থায় ৯ই ডিসেম্বর মুক্তি পাই। তাই ঠিক তখন থেকেই উপলদ্ধি করতে পারি মুক্তিযুদ্ধে আমার সরাসরি ভূমিকা না থাকার বেদনার কথা।

দীর্ঘ প্রায় ৮ মাসের বন্দীদশা অবস্থায় সেই বিভৎস যন্ত্রণা ও ভয়ঙ্কর তিক্ত অভিজ্ঞতাই আমাকে সমগ্র জাতির কাছে দায়বদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করেছে। কারণ ইহা সর্বজনবিদিত স্বীকৃত সত্য যে, স্বাধীনতার পরবর্তী বছরগুলো আমাদের এই প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ ছিল একটা যুদ্ধবিদ্ধস্ত, ভয়ঙ্কর দুর্দশাগ্রস্ত ও দুর্ভিক্ষ পীড়িত সম্প্রদায়, দেশ ও জাতি। কিভাবে সমস্ত প্রতিকূল অবস্থাকে পরাজিত করে আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এবং তার সহায়তায় একক ভাবে শ্রেষ্ঠ রূপকার হিসাবে জনশক্তি রপ্তানীর খাত সৃষ্টি করে সফলভাবে অর্জন করেছি এদেশ ও জাতির জন্য অফুরন্ত সম্পদের ভাণ্ডার। সেটা হলো প্রবাসী আয়ের প্রবাহ (রেমিটেন্স)। আর এই সম্পদ ভোগ করবে এই জাতি অনন্তকাল। দেশ ও জাতির জন্য আমি যে অভূতপূর্ব ও অবিশ্বাস্য অবদান রেখেছি। সেই দায়বদ্ধতাকে মূলমন্ত্র ভেবেই চেষ্টিত হয়েছি আজকের নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং আগামী প্রজন্মকে সোনার বাংলাদেশ উপহার দিয়ে বিশ্ব দরবারে এই দেশকে প্রতিষ্ঠিত করে সমগ্র বাঙালি জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে।

সুধী পাঠকদের বলা প্রয়োজন যে, আজকের নতুন বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে কেবল মাত্র রেমিটেন্সের ওপর ভর করে। তাই সুপ্রিয় পাঠকদের সুবিধার্থে দেশি ও বিদেশি মিডিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত যে সংবাদটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সেই প্রবন্ধটিও পড়ুন।

দেশ ও সমগ্র জাতির মঙ্গল কামনায়,

ড. মূসা বিন শমশের’