ক্রমেই বেরিয়ে আসছে নাঈম আশরাফের অন্ধকার জগতের ভয়ঙ্কর তথ্য

নাটের গুরু নাঈম আশরাফ

নাটের গুরু নাঈম আশরাফ

সাধারণ ফেরিওয়ালার ঘরে জন্ম নেয়া এইচএম হালিম ঢাকায় এসে নাম বদলে হয়েছে নাঈম আশরাফ। প্রকৃতপক্ষে সে একজন প্রতারক। স্কুলজীবন থেকেই এ কাজে তার হাতেখড়ি।

এরই মধ্যে গণমাধ্যমে বেরিয়ে আসছে তার যত অন্ধকার জীবনের ভয়ঙ্কর সব তথ্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

বাবার নাম বদল করে বিয়ে করেছে ৩টি। আগের ২ স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার কালসি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে চলছে তার সংসার।

নাঈম আশরাফের কয়েক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন, ধর্ষণ ও প্রতারণার মতো এরকম অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে নাঈম আশরাফ। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ইমেকার্সে কাজ করার সুবাধে সহজেই মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপিকাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতো। কিন্তু কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। যে কারণে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

ক্রমেই বেরিয়ে আসছে নাঈম আশরাফের অন্ধকার জগতের ভয়ঙ্কর তথ্য

নাঈম আশরাফের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন এমন একজন মডেল জানিয়েছেন, একই কায়দায় মদ পান করিয়ে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছিল নাঈম আশরাফ। ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের ১০ই মার্চ রাতে। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে সেদিন চলছিল ‘অরিজিৎ সিং সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা’ শিরোনামের কনসার্ট। ওই কনসার্টে ডেকে এনে গাড়িতে করে কাজের কথা বলেই তাকে বনানীর একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রথমে যেতে না চাইলেও নাঈমের প্রতি বিশ্বাস থাকায় সেখানে গিয়েছিলেন।

নাঈম আশরাফের এক বন্ধু জানিয়েছেন, নাঈম আশরাফ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করেন এই সুবাধে তাদের সঙ্গে পরিচয়। তার অতীত সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তাদের। তবে এ ঘটনার পর তার সম্পর্কে অনেক তথ্য পেয়েছেন তারা। একইভাবে সাফাতের সাবেক স্ত্রী মডেল পিয়াসা বলেছেন, নাঈম আশরাফ একটা ভণ্ড, প্রতারক। সে অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে। তদন্ত করলে এরকম আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

ক্রমেই বেরিয়ে আসছে নাঈম আশরাফের অন্ধকার জগতের ভয়ঙ্কর তথ্য

ভালো পোশাক, পরিচ্ছন্ন চেহারার আড়ালে নাঈম আশরাফ একজন ধূর্ত প্রতারক। প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কৌশলে সম্পর্ক গড়ে ফায়দা হাসিল করে সে। নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে বিভিন্নস্থানে। এমনকি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে তার পোস্টার, ব্যানার রয়েছে ওই এলাকায়। সুযোগ পেলেই প্রতিষ্ঠিতদের সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে প্রচারণা চালায় এই প্রতারক।

হালিমের এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা পাস করার পর হালিম একুশে টিভিতে যায় ইন্টার্নি করতে। এরপর সেখানেই ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে তার চাকরি হয়। চেক জালিযাতি করার কারণে তার চাকরি চলে যায়। পরে মোহনা টিভিতে একই পদে চাকরি নেয়। সেখানেও একই কারণে সে চাকরিচ্যুত হয়। বর্তমানে সে গান বাংলা টিভির ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগে কর্মরত। ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে ঢাকার কালসি এলাকার সাংবাদিক কলোনির পশ্চিম অংশে অবস্থিত এক্সটেনশন রূপপুরের ৪নং গলিতে ৫ তলা ভবনের ৩য় তলার পেছনের অংশের একটি ফ্ল্যাটে।

প্রতিবেশী ও স্থানীয় সীমান্ত বাজারের পানের দোকানি আবু সাঈদ জানান, হালিম জীবনে বহু মানুষকে নিজের বাবা বানিয়ে অকাম-কু-কাম করেছে।

হালিমের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ টিনশেড বসতঘর পাওয়া গেলেও তার বাবা-মাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। কথা হয় তার দিনমজুর ছোট চাচা আবুবক্কার সিদ্দিক ও চাচী মাহমুদা খাতুনের সঙ্গে। পত্রিকায় ছাপানো ছবি দেখে তারা নিশ্চিত করেন এটাই হালিম। নাঈম আশরাফ প্রসঙ্গে তারা কিছু জানেন না।

চাচী মাহমুদা খাতুন বলেন, বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে হালিম দীর্ঘ ৫ বছর বাড়িতে আসে না। কিছুদিন হলো সে তার বাবা-মাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। বাড়ির সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। বসতবাড়ি ও আবাদি জমি মিলে ১৭ শতক জায়গা আছে হালিমদের। আগে হালিমের বাবা ফেরি করে থালা-বাটি বিক্রি করতো। কৃষি শ্রমিক হিসাবেও মাঠে কাজ করেছেন।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আমরা জানতে পেরেছি ঢাকায় হালিমের ঝামেলা হয়েছে। এর আগে সে ধানমন্ডিতে বিয়ে করেছিল। সে বউ চলে যাবার পর বরিশালের এক মেয়েকে বিয়ে করে এখন সংসার করছে। এক প্রশ্নের উত্তরে ধর্ষণের ঘটনা সত্য হলে ভাতিজার শাস্তি দাবি করেন হালিমের চাচা-চাচী।